লৌহজংয়ে খালে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে মাদ্রাসা ও ব্রীজ

লৌহজং উপজেলার ডহরী-তালতলা খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ডহরী, সামুর বাড়ি, বাসুদিয়া, ফুলকুচি, ঘাসভোগ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বালু পাচারকারী একটি সিন্ডিকেট র্দীঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের এ মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব পয়েন্ট থেকে বেপরোয়া বালু উত্তোলনের কারনে উপজেলার খিদির পাড়া, গাঁওদিয়া ও কলমা ইউনিয়নের কলমা, ডহরী, সামুর বাড়ি, কাজিরগাঁ, খলাপাড়া, বাসুদিয়া, ফুলকুচি, রসকাঠি, ঘাসভোগ গ্রামসহ খালের তীরবতী কয়েক শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে লৌহজং বালিগাঁও সেতু, বড়মোকাম বাজার, মসজিদ, হাড়িদিয়া কোল্ড স্টোরেজ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ, ব্রীজ, কয়েক কিলোমিটার রাস্তা সহ বিভিন্ন স্থাপনা। আর এ অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত থাকায় মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা এলাকাবাসি। এমনকি প্রশাসনও নীরব ভুমিকা পালন করছে। এরই মধ্যে প্রশাসনের কথা বলে খিদির পাড়া ইউনিয়নের নায়েব রাজেশ খান বালু উত্তোলন কারী সিন্ডিকেটের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে, তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এই বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।

জানাগেছে ফুলকুচি কবরস্থানটি সংস্কার কাজে সরকারী ভাবে ১৬ লাখ টাকা ব্যায় করা হয়েছে। বালু উত্তোলনের ফলে কবরস্থানটি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এ ছারা একটি মাটি চোর সিন্ডিকেট রাতের অন্ধকারে খালের পাড় থেকে মাটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিরাতে এসব এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক ট্রলারে করে মাটি চুরি হয়ে যাচ্ছে।

পৃথক পৃথক স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালী মোঃ আলমাস মোল্লা, মোঃ হারুন ভুইয়া, মোঃ মিজানুর বেপারী, মোঃ দেলোয়ার বেপারী, মোঃ বাবু দেওয়ানের নেতৃত্বে একাধিক স্পটে প্রতিদিন অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খালেকুজ্জাজামানের সাথে কথা হলে তিনি জানন, বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে এখন যখন জেনেছেন যারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছেন তাদের বিরুদ্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাপোষ্ট২৪