আইনজীবীর পরিবারকে উচ্ছেদ : জেলা প্রশাসককে শোকজ

ucchedমুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের জোরপূর্বক উচ্ছেদের ফলে একটি আইনজীবীর পরিবার এখন পথে বসেছে। প্রশাসনের উচ্ছেদের সময় বাড়ির ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় বিপুল টাকার মালামালের কোন হদিস নেই। উচ্ছেদ অভিযান শেষ করার আগেই শহরের মালপাড়া গ্রামে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারির নামে ওই বাড়ির জমি বরাদ্দ দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শহরের মালপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী আইনজীবী মো. আলী সিদ্দিকী রাসেলকে (৩৪)-কে মো. শেখ সনেক নামে বরাদ্দ দেওয়া জেলা প্রশাসনের ওই কর্মচারিকে দিয়ে গত ৮ই জুন মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করানো হয়। এ মামলায় আইনজীবী রাসেলকে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মালপাড়া থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ আদালতের আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরদিন ৯ই জুন বিকেল ৫টায় মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলি আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে আদালতের বিচারক বেগম নার্গিস ইসলাম তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরআগে একইদিন (গত ৮ই জুন) আইনজীবী রাসেল হাইকোর্টে একটি সিভিল রিভিশন মামলা করেন (যার নম্বর ২১২১/২০১৪)।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মিফতাউদ্দিন চৌধুরী মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (রাজস্ব) শোকজ করেন এবং নালিশী সম্পত্তিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থায় থাকার (যে যেভাবে আছেন সেভাবে থাকার) নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু মহামান্য হাইর্কোটের এ নির্দেশও জেলা প্রশাসন মানেননি বলে আইনজীবীর রাসেলের অভিযোগ। রায়ের আদেশ পৌছানোর পরও রায়ের দিন রাত ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তার বাড়ির অবশিষ্ট মালামাল তছনছ করে গায়েব করে ফেলা হয়। বাড়ির স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, বাড়ি ভাঙচুর ও পরনের বস্ত্রের কোন হদিস নেই। একইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে জনৈক ব্যক্তিকে দিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয় বলে আইনজীবী রাসেল জানান।

তিনি আরো জানান, সদর থানার এসআই সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিনের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি টিম বিকেল ৩ টার দিকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে সম্পত্তি থেকে আমার ও আমার পরিবারকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। জেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে কোন রকম নোটিশ বা অবগত না করে তারা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন।
ucched
হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আজিজুল হকের দেয়া মহামান্য হাইকোর্টের সিভিল ডিভিশন মোকদ্দমার একটি নোটিশ গত ২৮ শে মে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও এডিসি (রাজস্ব) রিসিভ করে নিয়েছেন। নিন্ম আদালত গত ১৯ শে মে সরকার পক্ষ রায় পায়। সে মতে, আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য ১মাস সময় পাবো। তারপর আমাকে কোন রকম নোটিশ বা অবগত না করে জোরপূর্বকভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে উচ্ছেদ করে। এ বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হই।

কিন্তু তারা পুনরায় গত ৮ই জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বাড়ির মালামাল তছনছ ও গায়েব করে আমাকে ও আমার পরিবারকে উচ্ছেদ করে দেই। বৃদ্ধা অসুস্থ মাসহ আমরা এখন অসহায়ভাবে মানবেতর দিন যাপন করছি।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন জানান, প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রয়াত সিদ্দিক মাস্টারের পরিবার দীর্ঘ বছর যাবত সরকারি ওই সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল। সম্প্রতি সরকার উচ্চ আদালতের রায় পেলে আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করি। অভিযান চালিয়ে সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধ স্থাপনাও ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, একজন ম্যাজিস্ট্রেট তখনই উচ্ছেদ অভিযানে যায়, যখন আইনী আর কোন জটিলতা না থাকে। উচ্ছেদ নোটিশসহ আইনগত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেই আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, আইনজীবী রাসেলের বাবা সিদ্দিক মাস্টার জাল দলিল করে দীর্ঘ বছর সরকারি ওই সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল। এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমার করার পর আমরা হাইকোর্ট থেকে রায় পাই। সেই রায়ের আলোকে সরকারি সম্পূর্ণ নিয়ম রক্ষা করে তাদের উচ্ছেদ করেছি। সরকারি ওই বাড়িতে তাদের কোন মালামাল ছিল না বলে তিনি জানান।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা