মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়

munshigonjhighschoolমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল: মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ মুন্সীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। কয়েক বিদ্যানুরাগীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষালয় বিদ্যার আলো ছড়িয়ে জাতিকে করেছে অনেকভাবে আলোকিত। কালের সিঁড়ি বেড়ে বিদ্যালয়টি ১২৯ বছরে পা দিয়েছে এখন। জেলা শহরের পুরনো কাছরীতে অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠের ছাত্র ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, অভিনেতা, শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিক, ক্রীড়াবীদ ও রাজনীতিকসহ অনেক গুনীজন।

কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টির সেই জৌলস নেই। ৮০’র দশক থেকে সব দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ছে নানা ইতিহাসের স্বাক্ষী বালকদের এই বিদ্যালয়। এর পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জেলায় ১২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিন্তু সেগুলোর সাথে এখন আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। লেখাপড়ার মান ভালো না হওয়ায় এখন আর গুনী মানুষ বের হচ্ছে না বিদ্যালয়টি থেকে। এই বিদ্যালয় থেকে অনেক ক্রীড়াবীদেরও উত্থান ঘটেছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও জুরি ছিলনা বিদ্যালয়টির। কিন্তু এখন বিদ্যালয়ের প্রাচীন সেই মিলনায়তনটিতে ভাড়া দেয়া হয়েছে- কমিউনিটি সেন্টারকে।

সেখানে নাটক-সুরের আসর-বিতর্ক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে হচ্ছে বিয়ে-মুসলমানির রান্না আর খাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন। এতে বিদ্যালয়টির পরিবেশও বিনষ্ট হচ্ছে মারাত্মকভাবে। বিদ্যালয়ের প্রাচীন ব্যায়ামাগারে এখন আর শরীর র্চচা হয় না। এই অঞ্চলের প্রধান এই ব্যায়ামাগারটি ভাড়া দেয়া হয়েছে কিন্ডার গার্টেনের জন্য। বিদ্যালয়টির লাইব্রেরীর অবস্থাও নাজুক। সব কছু মিলিয়ে অতীতের সেই গৌরবময় অধ্যায় থেকে অনেকদূর ছিটকে পড়েছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টির ১২৫ বছরের পূর্তি উপলক্ষে ২০১০ সালে বের হওয়া স্মরনিকার সবর্শেষ বাণীতে বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিদ্যালয়ের অতীতের সেই গৌরবময় ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানিয়েছিলেন।

নাসার বিজ্ঞানী ড. আব্দুল আউয়াল, খ্যাতনামা অভিনেতা টেলিসামাদও এই বিদ্যালয়েরই ছাত্র। তাদেরও একই দাবী। এছাড়া এক সময়কার পূর্ব পাকিস্থানের তিনজন দ্রুততম মানব আরজান খান, আব্দুল খালেক, শাহ আলম এই বিদ্যালয়ের ছাত্র। শিল্পী আব্দুল হাই, রাশেদ খান মেনন, সাবেক সেনা প্রধান নুর উদ্দিন খান, সাংবাদিক মাহবুব আলম, ইজ্ঞিনিয়ার এবিএম মুসা। বিশিষ্ট ক্রীড়াবীদ মো. মহিউদ্দিন নওসের উজ জামান, শরীফ উজ জামান, নুরুজ্জামান, সিএসপি নরুল ইসলাম অনু, স্বপন দাস, মাসুম চৌধুরীও এই বিদ্যালয়ের ছাত্র।munshigonjhighschool

এই অঞ্চলের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাদের অধিকাংশ এই বিদ্যালয়রে ছাত্র। প্রাক্তন ছাত্র সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরকার মন্টু বিভিন্ন তথ্য দিয়ে জানান, ৫ বছর ধরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নেই। যথাযথ পরিচালনার ভুল, শিক্ষকদের রাজনীতি-গ্রুপিং এবং যোগ্য শিক্ষকের অভাবে সর্বোপরি কতিপয় প্রধান শিক্ষকের দুনীর্তির কারণে ৮০ দশক থেকে বিদ্যালয়টি পিছিয়ে পড়তে থাকে। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমল চন্দ্র আইচ জানান, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিদ্যালয়টি রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টির ছাত্র সংখ্যা ১১৩৫।

শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। প্রধান শিক্ষক ছাড়াও তিন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাতার নাম বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ১৮৮৫ সালে কয়েক বিদ্যানুরাগীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিরা জানান। এবারের এসএসসি ফলাফল অনুযায়ী বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭১ শতাংশ। ৯৩ ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৬৬ জন। কেউই জিপিএ ৫ পায়নি। তবে ‘এ’ পেয়েছে ৩ জন।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ