খান আবু বকর সিদ্দীক এর দুই কবিতা

রাত পোহাল
শীতের সকালে কলম নিয়ে, খাতায়
লিখছি শুধু লিখছি, একগুচ্ছ
কবিতা। কুয়াশায় সারা রাতের
আকাশের জোসনা, ঢেকে দিয়েছিল,

তাই ভোরের রোদে বসে, কাঁপা হাতে
লিখলাম, পাখি শীতার্তদের কথা
কবিতায়। এক কাপ চা যদি জুটতো,
তাহলে দু’পঙ্কতি বেশি লিখা হতো
কিন্তু আমি যে একা। সারা রাত
কেটেছে কাঁথা বালিশের মাঝে, নিম
গাছটার শালিকটার ডাক শুনে। হয়তো
শৈত্যে ওর ঘুম ছিলোনা ভেবেছিলাম।
ভাবতে ভাবতেই অদূরের মাসজিদের
আজান শুনে, বুঝেছিলাম রাত পোহালো।
কবিতা লিখতে যেয়ে, ঠান্ডা জলে
পাতিহাঁসগুলোর ডাক শুনলাম,শুনলাম
পাখির কোলাহল গাছের ডালে।
রাত পোহাল আবার রাত পোহাল।

শূন্য ভিটায় একা
তখন অনেক রাত, হয়তো মধু
পূর্ণিমা হবে। কলা পাতায় বাতাস
দোলে পেচোঁর ডাকে। মনে
শিহরণ জাগলো, হুতুম পেঁচার
কোলাহলে। একা ছনের ঘরটায়
রাত কাটাচ্ছিলাম শূন্য ভিটায়্।
অদূরে মাইকে জানান দিলো,
কোনো এক বৃদ্ধের মৃত্যুর সংবাদ।
ভাবলাম আজরাঈল আমার
গলা, এতক্ষনে টিপে ধরেছে।
অথবা ভূত পেতিœরা, গাছের ডালে
কান নাড়ছে আমার জন্য।
তারপর অজোরে বাতাস বসন্তের।
কন্ঠ শুকিয়ে কাঠ হয়েছে, এক চুমুক
পানির অভাবে, হলাম চৈত্রের কাক।
কিন্তু রাত পোহাল ভরে অমাবর্ষার!
লাল সূর্যের সাথে শূন্য ভিটায়,
বেড়িয়ে গেলাম, বেড়িয়ে গেলাম
একা শুধুই একা।