মুদি দোকানই দেবে ব্যাংকিং সেবা

takaস্বল্প ব্যয়ে আরো বেশি গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানো ও ব্যাংকগুলোর শাখা পরিচালনা খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশে শুরু হয়েছে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’। বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া এবং প্রবাসী উদ্যোক্তাদের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অনুমোদনের ফলে প্রাথমিকভাবে ব্যাংক এশিয়া সারা দেশে ৩০টি এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ২০টি এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবে। প্রত্যন্ত গ্রাম বা এলাকার বাসিন্দারা নিজ পাড়া বা মহল্লায় ব্যাংকের নিযুক্ত এজেন্টের কাছে গিয়ে স্বল্প ব্যয়ে টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়াসহ বেশ কিছু দরকারি আর্থিক সেবা নিতে পারবে। এসব ব্যাংকের এজেন্ট হিসেবে পাড়ার মুদি দোকান থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই নতুন ধারার ব্যাংকিংয়ের সাথে যুক্ত হবেন।

জানা গেছে, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাফল্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে এই নতুন সেবা চালুর উদ্যোগ নিল।

এই অনুমোদনের আগে ২০১৩ সাল থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ব্যাংক এশিয়া মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার বিভিন্ন স্থানে আটটি, লৌহজং থানায় একটি এবং শ্রীনগর থানায় দুটি এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো। এসব এজেন্ট দুই হাজারের বেশি গ্রাহককে ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সেবা প্রদানের এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পল্লী এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। এর ফলে পল্লী এলাকায় একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে অপরদিকে তেমনি গ্রামীন জনগোষ্ঠির শহরমুখিতা বহুলাংশে কমে আসবে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার হবে বলে প্রত্যাশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং হলো শাখার পরিবর্তে ব্যাংকের সাথে চুক্তি সম্পাদনকারী তৃতীয় পক্ষ তথা প্রতিনিধির মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা। এক্ষেত্রে এজেন্টরা তাদের সেবা প্রদান কেন্দ্র থেকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিজস্ব বিক্রয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে এমন ব্যক্তি বা এনজিও এজেন্ট হতে পারবেন এবং তিনি সংশি¬ষ্ট ব্যাংকের হয়ে গ্রাহককে আর্থিক সেবা দেবেন। তবে কেবল আইনী বৈধতা আছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত এনজিও, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানসহ ১০ ক্যাটাগরির বৈধ প্রতিষ্ঠান এজেন্ট হতে পারবে।

ব্যাংকের পক্ষে এজেন্ট নগদ টাকার লেনদেন, রেমিট্যান্স বিতরণ, হিসাব খোলার তথ্য সংগ্রহ, ব্যালেন্স ট্রান্সফার, ক্লিয়ারিং চেক জমা, ঋণের আবেদন গ্রহণ, ঋণের অর্থ লেনদেন, ঋণ আদায়, ক্রেডিট-ডেবিট কার্ডের আবেদন গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া এ সকল এজেন্ট ইউটিলিটি বিল ও পাসপোর্ট ফি গ্রহণসহ সামাজিক নিরপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকারী সহায়তার অর্থ বিতরণ করতে পারবে।

লিডনিউজ