উত্তাল পদ্মা, মন চাইলে ওঠেন

mawa5কিছুক্ষণ আগে ঝড়-বৃষ্টি হয়ে গেছে। হালকা বৃষ্টি ও বাতাস তখনও অব্যাহত। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে মনে হচ্ছে যেন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে পন্টুনে। সে কারণে মাওয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে মৃদু বিতর্ক শুরু হয়।

ফেরিটি ছোট। অন্যজন বলে উঠলেন ছোট ফেরিই ভালো। দ্রুত গতিতে যাবে। ডেইলি সানের ফটো গ্রাফার মেহেদি হাসান বলে উঠলেন, আমি ভাবছি অন্য কথা। আজকে ছোট ফেরিতে ওঠা ঝুকিপূর্ণ। কারণ যে কোন মুহুর্তে ঝড়-বৃষ্টি নামতে পারে।

আজানা আশঙ্কার ইঙ্গিত দিলেও খুলে বলতে সাহস পেলেন না। যদি সত্যি সত্যি ঘটে যায় ! সে কারণে অমঙ্গল মুখে নিতে চাইলেন না।
mawa5
মাইক্রোবাস চালক কোনো কথায় কান দিলেন না। কয়েকটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে ফেরি ‘করবী অক্সফার্মে’ উঠে পড়েন। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর ফেরিটি ঘাট ছাড়ার পরে জানতে পারলাম আমাদের গন্তব্য কাওড়াকান্দি রুটের নয়, যাবে শরীয়তপুর কাঠালবাড়ি ঘাটে।

একজন অভয় দিলেন ১৫/২০ কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরতে হবে। কিন্তু রাস্তা ভালো। তিনি জানালেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত শরীয়তপুরের ফেরি এই ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। এরপর দিনের বেলা আর শরীয়তপুরে ফেরি যায় না। সকালের দিকে উঠলে জেনে উঠতে হবে।

ফেরিটি ছাড়ার পর আবার বাতাস ও বৃষ্টির বেগ বেড়ে যায়। বৃষ্টি বাতাসে উত্তাল হয়ে পড়ে পদ্মা। দূলতে থাকে ফেরিটি। অনেকেই মনে মনে দোয়া দুরুদ পড়তে থাকেন। ফেরিটির দুই তিন তলার রেলিংয়ে দাঁড়াতে ভয় হচ্ছিল। এই বুঝি বাতাস ছিটকে ফেলে দেবে পানিতে।

করবী অক্সফার্ম’ বাতাসের ঠিক উল্টো দিকে (পশ্চিম-দক্ষিণমুখে) ধীর গতিতে চলতে থাকে। স্বাভাবিক গতি ১০ নটিক্যাল মাইল থেকে কমে অর্ধেকে নেমে আসে।

ফেরিটির ইঞ্জিন অফিসার ফিরোজ আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, ভয়ের কিছু নেই। সকালে ৮টার দিকে যখন বাতাসের বেগ বেশি ছিলো তখন কোন ফেরি ছাড়েনি। এখন বাতাসের গতিবেগ সহনীয় রয়েছে। বড় ধরনের বাতাস না হলে ভয়ের কিছু নেই।

স্বাভাবিক গতিতে বাতাস হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, কাঠালবাড়ি (শরীয়তপুর) ঘাটে যেতে দ্বিগুন সময় লাগবে। ১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১ ঘণ্টা লেগে যায়। এই গতিতে চললে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগতে পারে।

করবী অক্সফার্মসহ অন্যান্য ফেরিগুলি যখন বাতাসের গতিবেগ কমার জন্য তীর থেকে ছাড়তে বিলম্ব করছিলো। তখনও ছোট ছোট লঞ্চগুলি ঠিকই ছেড়ে যাচ্ছিল। যাত্রীদের জীবনকে হাতে নিয়ে রওয়ানা হলে দেখার যেন কেউ নেই। এত দুর্ঘটনা এত প্রাণহানি কারোরই যেন কিছুই যায় আসে না।

৪০ মিনিট পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাতাসের গতিবেগ কমে যায়। স্বাভাবিক গতিতে চলা শুরু করে করবী অক্সফার্ম। যাত্রীরা স্বস্তির নিশ্বাস নেন।
mawa6
ছোট আকারের এই ফেরিটি স্বাধীনতার পরপরেই প্রথম ধাপে জাপান থেকে আনা হয়। ৩০০ টন বহন ক্ষমতা রয়েছে। ফেরিটি ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের মধ্যেও চলতে পারে বলে জানান ইঞ্জিন অফিসার।

পুরনো হওয়া গতিবেগ মাপার যন্ত্র জিপিএস বিকল। কাঠের তৈরি টয়লেটের দরজা করুন দশা। টয়লেটের ভেতরে আলোর ব্যবস্থা নেই। দরজা বন্ধ করে দিলে অমবশ্যা অন্ধকার। আর অন্ধকারের মধ্যে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিব্রত পরিস্থিতে পড়েন যাত্রীরা। সঙ্গত কারণেই টয়লেটটি নোংরা থাকছে সব সময়।

যাত্রীরা অনেক অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। অবস্থা এমন মন চাইলে ওঠেন। না হলেন নেমে যান। ইঞ্জিন অফিসার বলেন, সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কি করার আছে ?

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর