ইয়াজ উদ্দিনের ছেলের প্রতারণার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ

high courtসাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে প্রতরাণার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ তদন্ত করতে বলেছেন আদালত।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভার প্রকল্প এলাকায় ইমতিয়াজ আহম্মেদ রেলওয়ের কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি প্রতি ৫ বছর পর পর নবায়ন শর্তে ১৫ বছরের জন্য লিজ নেন। ২০০৩ সালের ১৭ জুলাই রেলওয়ের চিফ স্টেট অফিসারের (ইস্ট জোন) সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

সেখানে ঢাকা সিএনজি অ্যান্ড ফুয়েল ফিলিং কোম্পানি লিমিটেড স্থাপন করা হয়।

২০০৭ সালের ১৩ মে এবং ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি এ চুক্তি নবায়ন করা হয়। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ইমতিয়াজ আহম্মেদ ঢাকা সিএনজি অ্যান্ড ফুয়েল ফিলিং কোম্পানি লিমিটেডের অংশিদারিত্ব তিন ব্যক্তির নামে (মাহবুবুর রহমান, জসিমউদ্দিন ও মোতাফিজুর রহমান) হস্তান্তর করেন।

ফিলিং স্টেশনটি উচ্ছেদের জন্য ২০১০ সালের ১৪ জুন ও ৭ আগস্ট দুই দফা রেলওয়েকে নোটিশ দেয় রাজউক।

নোটিশে রাজউক দাবি করেছে, রেলওয়ের বরাদ্দ করা জমিটি কুড়িল ফ্লাইওভার প্রকল্পে পড়েছে। যা পূর্বাচল নতুন প্রকল্পভূক্ত।

কিন্তু রেলওয়ে উচ্ছেদ না করে স্টেশনটি কুড়িল ফ্লাইওভারে প্রকল্পে পড়েনি বলে মন্তব্য করে।

পরে রাজউক নিজেই ২০১০ সালের ৯, ১০ ও ১১ আগস্ট স্টেশনটি উচ্ছেদ করে।

এদিকে ৭ আগস্ট রাজউকের উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জসিম উদ্দিন রিট করেন। এ রিটে একই বছরের ১৮ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এছাড়া ওই কোম্পানির মেশিনারিজ না সরাতে নির্দেশ দেন আদালত। পরে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপর উভয়পক্ষকে বিচারাধীন রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন।

এ রুল শুনানিতে রাজউকের আইনজীবী অভিযোগ করেন, ইমতিয়াজ আহম্মেদ প্রতারণামূলকভাবে ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি চুক্তি নবায়ন করেছেন। কারণ, তিনি ২০০৯ সালে এ কোম্পানির অংশিদারিত্ব হস্তান্তর করেন। তাই তিনি ২০০৯ সাল থেকে ওই কোম্পানির মালিক নন। এ কারণে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে পারেন না।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করে দিয়ে ইমতিয়াজ আহম্মেদ এবং ওই সময়কার রেলওয়ের চিফ স্টেট অফিসারের (ইস্ট জোন) বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুস সামাদ, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস। রাজউকের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর