‘অস্বাভাবিক গতিতে ছিল এমভি মিরাজ’

miraj1ঝড়ের মধ্যে অস্বাভাবিক গতির কারণে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার দৌলতপুরে মেঘনা নদীতে ডুবে যায় এমভি মিরাজ-৪। চলতি মাসের ১৫ তারিখে প্রায় আড়াই’শ যাত্রী নিয়ে ডুবে এমভি মিরাজ। লঞ্চটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রাথমিক তদন্তের লঞ্চের দ্রুতগতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

তদন্তে জানা গেছে, প্রচণ্ড ঝড় শুরু হওয়ার পরও চালক লঞ্চটি তীরে নিয়ে যাননি। উল্টো স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় গুণ বেশি গতিতে চালক লঞ্চটি চালান। তার এ অদক্ষতার কারণে ঝড়ে কবলিত লঞ্চটি নদীর ৫০-৬০ ফুট গভীরে ডুবে যায়। অথচ একই সময়ে কাছাকাছি থাকা আরেক যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি ময়ূর-৭ নিরাপদেই ছিল।

দুর্ঘটনা অনুসন্ধানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) গঠিত চার সদস্যের কমিটির প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিআইডব্লিউটিএ অর্থ বিভাগের সদস্য মো. মানিরুজ্জামান দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘তীব্র বাতাসের মধ্যে লঞ্চটি পরিচালনায় ব্যর্থ হন চালক। লঞ্চটিকে তিনি বাতাসের অনুকূলেও রাখতে পারেননি। লঞ্চটি অনেকটা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে ডুবে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। যদিও দুর্ঘটনায় লঞ্চের চালকও মারা গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা, প্রত্যক্ষদর্শী, বেঁচে যাওয়া যাত্রীসহ বিভিন্নজনের জবানবন্দি নিয়েছি। তাছাড়া পত্রিকার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও আমরা গণশুনানির আয়োজন করি। এই সকল জবানবন্দি একত্রিত করে আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত প্রতিবেদন জানাতে পারব।’

এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ১৯ মে সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ২০ মে মঙ্গলবার কমিটির সদস্যরা লঞ্চ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বক্তব্য রেকর্ড করতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার যান।

২৭ মে বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ডুবে যাওয়া লঞ্চের নকশা ও বাস্তব অবস্থা, কারিগরি দিক ও দুর্ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে।

সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় প্রতিবেদন জমাদানের সময় আরও সাতদিন বাড়ানো হয়।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নৌ-বাণিজ্য অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার এফএম সিরাজুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘সত্য ঘটনা বের করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। আমরা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নানা দিক পর্যালোচনা করছি। কর্মকর্তা, প্রত্যক্ষদর্শী, যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।’

দ্য রিপোর্ট