শীষকে ‘শায়েস্তা’ করতে সবুজকে অপহরণ

shobuj3জাজ মাল্টিমিডিয়ায় চাকরি হারানো এক কর্মী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শীষ মনোয়ারকে শায়েস্তা করতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক সবুজকে অপহরণ করেছিল বলে পুলিশ মনে করছে।

অপহরণের এক মাস পর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির একটি বাড়ি থেকে সবুজকে উদ্ধারের পর বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এই ধারণার কথা জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার জ্যেষ্ঠ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সবুজকে উদ্ধারের সময় গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম নয়ন (২৯)সহ চারজনকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়, এদের মধ্যে রফিকই এই অপহরণকাণ্ডের ‘হোতা’ বলে পুলিশের দাবি।

গত ২৬ এপ্রিল অপহৃত হওয়ার পর সবুজের পরিবারের মামলায় এই চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শীষ মনোয়ারকে আসামি করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
shobuj2
উদ্ধার পাওয়া সবুজ বলেন, অপহরণের পর রফিক তাকে বলেছিল, ‘শীষ মনোয়ারের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে’। এছাড়া তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে অর্থ চাওয়ার সময়ও শীষ মনোয়ারের নাম বলা হয়েছিল।

সবুজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চাকরি হারানোর ক্ষোভ থেকেই রফিক এই ঘটনার সঙ্গে শীষ মনোয়ারকে জড়িয়েছে বলে তার ধারণা।

শীষ মনোয়ারের সঙ্গে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্মী উজ্জ্বলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল জানান।

“তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না। তাছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে,” একইসঙ্গে বলেন তিনি।

সবুজ উদ্ধারের খবর পেয়ে গোয়েন্দা কার্যালয়ে যাওয়া শীষ মনোয়ারের স্ত্রী রাশিদা সুলতানা রিভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাজ মাল্টিমিডিয়াকে ধ্বংস করার জন্য এটি একটি চক্রান্ত।আমার স্বামীকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত করার চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।”

রফিকের সঙ্গে গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- কামরুল হাসান নয়ন (২৭), মাইনুল হোসেন বাবু (৩০) ও আরিফ হোসেন মিলন (৪৪)।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল বলেন, মঙ্গলবার রফিককে গ্রেপ্তারের পর তার দেয়া তথ্যে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার দক্ষিণ পাইকপাড়া এলাকার কসবা গ্রামে কামরুলের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজকে উদ্ধার করা হয়।

“গত বছর রফিকের চাকরি চলে যায়। এ জন্য সে সবুজকে দায়ী করে, শীষ মনোয়ারের ওপরও ক্ষুব্ধ হয় সে। এ কারণেই সবুজকে অপহরণ করে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।”

মনিরুল ইসলাম জানান, অপহরণের পর সবুজের মোবাইল ফোন থেকে রফিক মুক্তিপণের টাকা চেয়ে তার আত্মীয়স্বজনকে এমএমএস করত। সেই এসএমএসে জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক আব্দুল আজিজ এবং শীষ মনোয়ার জড়িত বলে উল্লেখ করা হত।

সবুজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাকে অপহরণের পর ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। পরে টাকার অঙ্ক ৯০ লাখ টাকায় নেমে আসে।

অপহরণের পর নারায়ণগঞ্জ, পরে মুন্সীগঞ্জ
পুলিশ জানিয়েছে, সবুজকে অপহরণের পর প্রথমে নারায়ণগঞ্জে রাখা হয়েছিল, পরে নেয়া হয়ে মুন্সীগঞ্জে।

পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিককে অপহরণের পর কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২৫ দিনের মতো আটকে রাখা হয়েছিল সবুজকে।

গত ২৬ এপ্রিল মিরপুর গোলচক্কর থেকে অপহরণ করা হয় সবুজকে। তিনি বলেন, “সকালে মগবাজার অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্করে বাসের জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। এসময় হঠাৎ করেই রফিকুল ইসলাম একটি গাড়ি নিয়ে আমার কাছে আসে।”

সবুজ বলেন, রফিক নতুন গাড়ি কিনেছে জানিয়ে তাতে চড়তে বলে। আধাঘণ্টা ঘুরে অফিসে নামিয়ে দেবে বলেও জানিয়েছিল।

“গাড়িতে এসময় চালকসহ আরো চারজন ছিল। পরে অপরিচিত আরো একজনকে তুলে নেয়া হয়। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে এলে আমার স্ত্রী ফোন করেছিল। কিন্ত গাড়িতে থাকা লোকজন ছুরির ভয় দেখিয়ে আমার মোবাইল ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয়।”

তারপর গাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জের একটি বাড়ির নিচ তলায় নিয়ে সবুজকে আটকে রাখে, সেখানে তার দেখভালের জন্য অপরিচিত এক যুবক ছিল।

“ওই বাসায় আমাকে ২৫ দিন আটকে রাখা হয়, মারধরও করা হয়। পরে মুন্সীগঞ্জের এক বাসায় নেয়া হয়।”

মুন্সীগঞ্জের ওই বাড়িতে সবুজকে একটি পরিবারের সঙ্গে রাখা হয়। সেখানে নেয়ার পর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে না আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আমাকে বলা হয়েছিল, শীষ মনোয়ার লোকজন দিয়ে আমাকে হত্যা করবে।”

বিডিনিউজ

================

অপহৃত সবুজকে ১ মাস পর মুন্সীগঞ্জে জীবিত উদ্ধার

ঢাকা থেকে অপহরণের এক মাস পর জাজ মাল্টিমিডিয়ার জ্যেষ্ঠ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবু বকর সবুজকে মুন্সীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আবু ইউসুফ জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

আটকেরা হলেন- রফিকুল ইসলাম ওরফে নয়ন (২৯), কামরুল হাসান ওরফে নয়ন (২৭), মঈনুল হোসেন ওরফে বাবু (৩০) ও আরিফ হোসেন ওরফে মিলন (৪৪)।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রফিকুল ইসলাম জানান, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে সবুজকে অপহরণ করা হয়।
shobuj
মনিরুল ইসলাম জানান, রফিকুল জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও শীষ মনোয়ারের কারণে চাকরি হারায়। এজন্য শীষ মনোয়ার ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। চাকরি চলে যাওয়ার পর জাজ মাল্টিমিডিয়ার ক্ষতি করতে সবুজকে অপহরণ করা হয়।

উদ্ধার হওয়া সবুজ জানান, ২৬ এপ্রিল মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় রফিকুলের সঙ্গে তার দেখা হয়। রফিকুল তার বন্ধু ছিল। তারা একসঙ্গে মিডিয়াতে কাজ করতেন। রফিকুল তাকে (সবুজ) একটি প্রাইভেট কারে উঠতে বলেন। এর পর তাকে হাতিরঝিল এলাকায় কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।

তিনি জানান, অচেতন অবস্থায় তাকে (সবুজ) নারায়ণগঞ্জের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২৫ দিন আটকে রাখার পর ৬ দিন আগে তাকে মুন্সীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে ডিবি তাকে উদ্ধার করে।

মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পূর্বে গ্রেফতার হওয়া শীষ মনোয়ার ও প্রডাকশন ম্যানেজার উজ্জলসহ আরও কেউ জাড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।

২১ মে দ্য রিপোর্টকে প্রকাশিত ‘কান্না থামছে না সবুজের স্বজনদের, শেষ হয় না অপেক্ষা’ প্রতিবেদনের ছয়দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়।

দ্য রিপোর্ট