মুন্সীগঞ্জে উন্নত জাতের লিচু ও আম চাষের অপার সম্ভাবনা

dj২ফুট উচ্চতার গাছে লিচু!
চারিদিকে পদ্মা মেঘনা শীতলক্ষা নদীবেষ্টিত সূজলা সূফলা শস্যশ্যামলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি প্রাচীন বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ। এক সময় যেমন এ এলাকা রামপালের কলার জন্য বিক্ষ্যাত ছিল এবং বর্তমানে আলুর জন্য দেশজুড়ে নাম, ঠিক তেমনি এ এলাকা এক সময় হতে পারে উন্নত লিচু আর আমের জন্য ও বিক্ষাত। এখানের মাটি সোনার চেয়েও খাটি। এ মাটিকে যত্ন করে রত্ম পাওয়া সম্ভব।

তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এম, আতোয়ার রহমানের নেতৃত্বে একদল বিচারক। তাদের লিচু গাছ আর আমবাগনের দৃশ্য দেখে অবিভূত জেলার স্বাধারন মানুষ। সবচেয়ে বেশী অবাক করেছে জেলা জজের বাসভবনের আঙ্গিনায় ২ ফুট উচ্চতার একটি লিচু গাছে লিচুর ফলন দেখে। লিচু গুলি উন্নত জাতের এবং বেশ বড়বড় আকৃতির। চেহারায়ও স্বাধে এর তুলনা ভার। মাত্র কয়েক মাসের একটি চারা গাছে এত সুন্দর লিচু যে কারোরই মন কাড়বে।

জেলা জজ জানিয়েছেন, এখানে লিচুর চাষ করা সম্ভব কিনা তা দেখার জন্য তিনি পরিক্ষামূলকভাবে ৩ মাস আগে একটি চায়না-৩ জাতের লিচুর চারা তাঁর বাসভবনের আঙ্গিনায় রোপন করেন। কিছু দিন যেতেনা যেতেই ওই গাছে ফুল আসে এরপর ফল। লিচু গুলি দেখতে অপরুপ। তিনি মনে করছেন মুন্সীগঞ্জে চায়না-৩ জাতের লিচু গাছ রোপন করলে এখানে প্রচুর লিচু পাওয়া সম্ভব। আমাদের ফলের যে চাহিদা রয়েছে তার বেশ একটি অংশ এ জেলা থেকে পাওয়া যেতে পারে।
dj
এ দিকে জেলা শহরের কেন্দ্রবিন্দু ইদ্রাকপুর কেল্লা সংলগ্ন মুনসেফ পাড়ায় দির্ঘ দিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে জেলা জজের নেতৃত্বে একদল বিচারক পরিচর্যার মাধ্যমে আম গাছের চারা রোপন করে আমবাগানে রুপান্তর করেছেন। যা দেখে বৃক্ষ প্রেমীরা গাছ রোপনে উৎসাহিত হবেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে গাছের অবদান অনস্বিকার্য। বাড়ির পাশে ও আনাচে কানাচে পড়ে থাকা যেটুকু জমিই খালি থাকুকনা কেন সেখানে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখা যায়। সুস্থ্যভাবে বেচেঁ থাকার জন্য সকলের গাছ রোপন করা উচিত বলে মনে করেন জেলা ও দায়রা জজ এম, আতোয়ার রহমান।

মাত্র ৬ মাস আগে ১০ শতাংশ পড়ে থাকা পরিত্যাক্ত জমিতে বেশ কিছু আম্রপালি জাতের আমের চারা রোপন করেন। এ বছর সেই সমস্ত চারা গাছের প্রায় সবগুলি গাছে আম্রমুকুল দেখাদেয় এবং প্রায় প্রতিটি গাছেই আম রয়েছে। এ জেলায় লিচু আর আমের চাষ তেমন না হলেও এবং লিচু এবং আমের জন্য বিক্ষ্যাত না হলেও হয়তো এ বাগান দেখে সকলেই উৎসায়িত হবেন আম ও লিচু চাষে। জেলা জজ্শীপের সকলের এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধীদপ্তরের সহায়তায় বাগানটি এখন পরিপূর্ন আম বাগানে পরিনত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সহ-কারি কৃষিকর্মকর্তা আবু জাহের এর পরামর্শে এ আমবাগানের পরিচর্যা করা হয়। সার্বক্ষনিক ভাবে এ বাগানের তদারকি করেন জেলা ও দায়রা জজ্ এম, আতোয়ার রহমান।

এ দিকে মঙ্গলবার বিকেলে মুনসেফ পড়ার আমবাগান পরির্দশনে আসেন জেলা ও দায়রা জজ এম, আতোয়ার রহমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: হেলাল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: শাহাজাহান কবীর, যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ্ মো: আবুল কাশেম, জেলা কৃষিকর্মকর্তা বৃন্দ, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, প্রমুখ।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: শাহাজাহান কবীর বলেন,গাছপালা ফলমূল মানুষের সুস্থ্যভাবে বেচে থাকার জন্য অতিব প্রয়োজন। এই সব ফরে গাছ এক দিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় ভুমিকা রাখে অপর দিকে এর ফল আমাদের চাহিদা পূরন করে। তা ছাড়া বর্তমানে বাজারে এত ফরমালিনের আশংকা তা দেখে অনেকে ভয়ে ফল কিনে খেতেও ভয় পায়। তাই নিজেদের গাছে যদি উন্নত জাতের ও মানের লিচু, আম, জাম, জামরুল, কলা, কাঠাল ইত্যাদি ফলমূল থাকে একমাত্র তারাই নিরেট ও বিষমুক্ত বা ফরমালিন মুক্ত ফল খেতে পারেন। আমাদের এ উদ্দোগ হয়তো তারই একটা অংশ হতে পারে। আমরা চাই আমাদের দেশের প্রতিটি স্থরের প্রতিটি মানুষ তার সাধ্যমত গাছ লাগিয়ে আমাদের দেশকে ফুলে ফলে ভরে তুলবে।

এ সময় যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ মো: আবুল কাশেম বলেন, জাজশীপের এ বাগান দেখে মনে হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে উন্নত জাতের আম এবং লিচু চাষ সম্ভব। আম এবং লিচুর জন্য যে সমস্ত এলাকা বিখ্যাত সেই সমস্ত এলাকায় যে সমস্ত জাতের আম ও লিচু চারা রোপন করা হয় তা এখানেও রোপন করা সম্ভব বলে মনে হয়। এখানে চাযনা-৩ জাতের লিচু গাছ লাগানো যেতে পারে। এ প্রজাতির গাছে যে ধরনের লিচু পাওয়া যাবে তা দেখতে এবং খেতেও ভাল। এ ছাড়া এখানে ল্যাড়া,আম্রপলিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের গাছ রোপন করে আমাদের ফলের চাহিদা পুরন করা যেতে পারে। এ উদ্দোগের মুল কারীগর জেলা জজকে উপস্থিত সকলেই ভূয়োষি প্রশংসা করেন।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ