আ. লীগ, বিএনপি ও জামায়াত সবাই ধ্বংসের জন্য দায়ী

sicভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সঙ্কটপূর্ণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যামিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি ও ভারতের পানি আগ্রাসন ও সরকারের নতজানু নীতির প্রতিবাদে বাম মোর্চার জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ভারত আমাদের নদীগুলোকে মরুভূমিতে পরিণত করছে। তারা আজও অবৈধ ও একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহারের চেষ্টা করছে। নদী মরে যাওয়ার কারণে মানুষের জীবন, ফসল ও পশুপাখি বিপন্ন হচ্ছে।

এ অবস্থার জন্য তিনি দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলকে দায়ী করে বলেন, এই ব্যর্থতার দায় আমাদের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের। তারা মনে করে এই দেশের কোনো ভবিষ্যত নেই। তারা দেশ নিয়ে ভাবে না। তাদের সকল সম্পদ বাইরে গড়ে তোলেন এবং ছেলেমেয়েদের বাইরে মানুষ করেন। পানি নিয়ে তাদের সমস্যা হবার কথা নয়। কেননা পানির সাথে আমাদের সম্পর্ক।

সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, আমাদের শাসকরা সবাই দক্ষিণ বঙ্গের। জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সবাই দক্ষিণ বঙ্গের। তারা এ দেশের ধ্বংসরে জন্য দায়ী। আমরা যে সমস্যার মধ্যে আছি এটা কোনো তাত্ত্বিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে আমাদের বাঁচার প্রশ্ন জড়িত। প্রধান দুই দলের কোনো দলের উপরই আর ভরসা করা যায় না। নির্ভর যদি করতেই হয় তাহলে বামপন্থিদের উপরেই করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারতের পানি আগ্রাসনের স্বীকারে দেশের নদীগুলো মরে গেলে দেশের ধনী ব্যক্তিরা সুখি হবেন। কারণ সেখানে তারা নানা স্থাপনা তৈরি করতে পারবে, আবাসন ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবে।

বামপন্থিদের আন্দোলনের ব্যর্থতার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদেশের মুক্তি আন্দোলনে বামপন্থিরাই সর্বদা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। আজ বামপন্থিরা নানা কারণে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না এ কথা সত্য। এদেশে চরমপন্থীরা মাথাচারা দিয়ে উঠবে যদি না বামপন্থিরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসে। বামপন্থী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে কারণ তার উপর দেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। দেশের মানুষ তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।

ঢাবির এ শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশের সামনে যে বিপদ তা মোকাবেলা করতে হবে বামপন্থিদেরই। দেশের মানুষের জন্য বিপদের কোনো শেষ ছিল না। আমরা বিপদে ছিলাম ব্রিটিশ আমলে। সংগ্রাম করে তখন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হবার পর আবার বিপদ আসলো। দেশভাগ হবার পর অনেকেই বলতে শুরু করল পূর্ববঙ্গ টিকবে না। এই অঞ্চলে বিদ্যুত নেই, কলকারখানা নেই, পাটকল নেই তাহলে কীভাবে টিকবে? কিন্তু তারপরেও পূর্ববঙ্গ টিকেছে। এর কারণ হচ্ছে এদেশের কৃষক-মজুর ও মুক্তিকামি মেহনতি মানুষ। তারপর ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর কেউ কেউ বলতে শুরু করল বাংলাদেশ টিকবে না। এদেশের মেহনতি মানুষগুলোর জন্যই দেশ এখনো টিকে আছে।

বাম মোর্চার সমন্মায়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে কনভেনশনে আরো উপস্থিত ছিলেন- তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও নদী বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আনু মোহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন, অধ্যাপক আহমেদ কামাল, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অর্থনীতিবিদ স্বপন আদনান, পরিবেশবিদ আব্দুল মতিন, বাসদ কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মবিনুল হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্ময়কারী জোনায়েদ সাকীসহ বাম মোর্চার অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

আমাদের সময়