৪০ দালালের হাতে জিম্মি গ্রাহক সেবা : রমরমা মিটার বানিজ্য

Dnitiটঙ্গীবাড়ী পল্লীবিদুৎ
ব.ম শামীম: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী পল্লীবিদুৎ সমিতির রমরমা মিটার বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন মিটার সংযোগ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একটি মিটার এর মূল্য ৬ শত এবং পল্লীবিদুৎ সদস্য ফরমের মূল্য ১শত টাকা মোট ৭ শত টাকার মিটার মূল্য গ্রাহকদের কাছ হতে ১০-১২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। গত ৩ মাসে টঙ্গীবাড়ী পলী­বিদুৎ সমিতি প্রায় ১২ শত গ্রাহকের নিকট হতে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

পল্লীবিদুৎ সমিতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের প্রায় ৪০ জন দালালের মাধ্যমে মিটার বিতরণ করছে। আর এ সমস্ত দালালদের মাধ্যম ছাড়া মিটার আনতে গেলে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও মিটার পাচ্ছেনা গ্রাহকরা। এছাড়া অনলাইনে আবেদন করার ব্যাবস্থা থাকলেও অধিকাংশ সময়ই পল্লীবিদুৎ সমিতির সার্ভার বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ নিয়ে জনমনে তিব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পল্লীবিদুৎ অফিস সুত্রে জানাগেছে, যেই সময় গ্রাহকরা অনলাইনে কম আবেদন করে সেই সময় কিছু সময়ের জন্য সার্ভার খোলা রাখা হয়। এ ছাড়া অধিকাংশ সময় সার্ভার বন্ধ রাখা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অন-ইচ্ছুক পল্লীবিদুৎতের কতিপয় ইলেকট্রিশিয়ান জানান, প্রতি মিটার বাবদ ডিজিএম গিয়াসউদ্দিকে ১ হাজার, ইঞ্জিণিয়ার সেলিম ১ হাজার ও ইন্সপেকটর সালাম এবং ওয়াজেদকে ৫ শত করে টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া মিটার একস্থান হতে অন্যস্থানে হস্তান্তর করার জন্য ৫-৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার পাচঁগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী লিটন সরকার জানান, আমি বিদুৎ সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে গেলে আমার কাছ হতে ১শত টাকার আবেদন ১ হাজার টাকা নেয় অফিসের দালাল মোস্তাকিন ফকির। এছাড়া পাচঁগাওঁ গ্রামের জলিল ডাক্তার এর নিকট হতে নতুন মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ১১ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়েছে মোস্তাকিন। দির্ঘদিন হয়ে গেলেও মিটার সরবারহ করা হচ্ছেনা।

চাঠাতিপাড়া গ্রামের কামাল মোল্লা জানান, কিছুদিন আগে আমার বাড়ির সামনে ঝড়ে তার ছিড়ে গেলে তা জোড়া দেওয়ার জন্য আমার কাছ হতে ২ হাজার টাকা আদায় করে নেয় পল্লীবিদুৎ অফিসের লোকজন। এছাড়া পল্লীবিদুৎতের অনুমোদিত ডিলারের নামে কতিপয় তাদের মনোনিত এজেন্ট রড, বোর্ড তার সুইজ বিক্রির নামে অধিকহারে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বিদুৎতের নতুন খুটি বসানোর জন্য দুরত্ব অনুযায়ী হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। খুটির দুরত্ব ১ শত ফিটের বেশি হলেই গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী পল্লীবিদুৎ সমিতির ডিজিএম এসএম গিয়াসউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে তার অফিসে গেলে, সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, বলে আমি আপনাদের তথ্য দিতে বাধ্য নই। আমার অফিসে আপনাদের কে আসতে বলেছে? আপনাদের ডিমান্ড কি তাই বলেন। সাংবাদিকরা বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়ে তার কথা কোড করতে শুরু করলে, সে ক্ষিপ্ত হয়ে আরো জানায়, বাসসের সভাপতি সবুজ আমার ভায়রা হয়। আপনারা যা খুশি লিখেন আমার কিছু করতে পারবেন না। উল্লেখ্য, উক্ত ডিজিএম টঙ্গীবাড়ী পল্লিবিদুৎ সমিতিতে যোগদানের পরে দূর্ণীতির কারনে তার অফিস কয়েকবার ঘেরাও এর ঘটনা ঘটে।