পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পাচ্ছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং

padma1অবশেষে মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।’ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ঠিকাদার নিয়োগের এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

ঠিকাদার নিয়োগের সার-সংক্ষেপ অনুযায়ী, মূল সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে মোট ব্যয়ের ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশ (৩ হাজার ১০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা) দেশিয় অর্থে ও অবশিষ্ট ৭৪ দশমিক ৪০ শতাংশ (৯ হাজার ২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা) বৈদেশিক মুদ্রায় (ডলারে) পরিশোধ করতে হবে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১১ মে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণে প্রাথমিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে ২০১১ সালের মাঝামাঝি ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। সে সময় মূল সেতুর ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৯ হাজার ১২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে বিশ্বব্যাংকের আপত্তিতে ২০১১ সালের আগস্টে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। নানা জটিলতায় প্রায় দুইবছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালের ২৬ জুন চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। আর গত ২৪ এপ্রিল মূল সেতুর আর্থিক প্রস্তাব জমা পড়ে। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে ৩ হাজার ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।

তবে তিন বছরের ব্যবধানে ব্যয় বাড়লেও সর্বশেষ প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় দরদাতা প্রতিষ্ঠান প্রায় ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ কম দর দিয়েছে। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ হচ্ছে ১ হাজার ৭৫২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৬ জুন চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বানের পর মূল সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এ ব্যয় প্রাক্কলন করে।

মূল পদ্মা সেতু নির্মাণে ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রাক-যোগ্যতা বাছাই দরপত্রে অংশ নেয় ও ৫টি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। পরে বিশ্বব্যাংক কালো তালিকাভুক্ত করায় চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে বাতিল করা হয়। গত বছর ২৬ জুন চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে সবগুলোই কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। অপর দুই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিএন্ডটি করপোরেশন এবং ডেলিম-এলএন্ডটি জেভি। কিন্তু আর্থিক প্রস্তাব জমাদানের ক্ষেত্রে শেষোক্ত দুই প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে ১০ সপ্তাহ ও ১১ সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল-এইকম ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) এতে সম্মত হয়নি। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চায়না মেজর ব্রিজকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সম্প্রতি যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ২০১৭ সালের ডিসেম্বর বা ২০১৮ সালের প্রথম দিকে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এদিকে পদ্মা সেতুর নদী শাসন অংশে কারিগরিভাবে যোগ্য পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। মূল অবকাঠামো ও নদী শাসনের পরামর্শক নিয়োগে কারিগরি দরপত্র মূল্যায়ন চলছে। আর পদ্মা সেতু প্রকল্পের অপর তিন অংশ জাজিরা সংযোগ সড়ক, মাওয়া সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এলাকা ২-এর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ তিন অংশের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান এএমএল-এইচসিএম। অংশ তিনটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আর প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবারের ক্রয় কমিটির বৈঠকে আরও দুটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাব দুটি হচ্ছে- কানাডা থেকে সরকারি পর্যায়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি সার আমদানি এবং ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক (বাংলা-ইংরেজি) ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক তৈরির জন্য ১৮ হাজার মেট্রিক টন কাগজ ও ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন কার্টিজ কাগজ ক্রয়।

দ্য রিপোর্ট