জাপানে বারী সিদ্দিকী ও সুবীর নন্দী সংবর্ধিত

MOniSubirরাহমান মনি: বংশীবাদক, সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীতসাধক আব্দুল বারী সিদ্দিকী এবং বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি। ৬ষ্ঠ প্রবাস প্রজন্ম ২০১৪’র আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এই দুই গুণী শিল্পীর জাপান সফর উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে এই নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বারী সিদ্দিকীকে এবার প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা দেয়া হয়। এর আগে ৫ম প্রবাস প্রজন্ম ২০১৩ সম্মাননা দেয়া হয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীকে। এ বছর তাকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। ৪ মে ২০১৪ টোকিওতে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

টোকিওর কিতা সিটি আকাবানে বুনকা সেন্টার বিভিও হলে ৫ মে ২০১৪ এই শিল্পীদ্বয়কে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কাজী ইনসানুল হক। সুখেন ব্রহ্মর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাহমান মনি, সালেহ্ মোঃ আরিফ, মীর রেজাউল কমির রেজা, এমডি এস. ইসলাম নান্নু, মুনশী কে. আজাদ ও খন্দকার আসলাম হিরা।
MOniSubir
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাপানপ্রবাসীদের পক্ষ থেকে খন্দকার তোমোকো এবং ববিতা পোদ্দার যথাক্রমে বারী সিদ্দিকী এবং সুবীর নন্দীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়াও শিল্পীদ্বয়কে স্থানীয় ওয়ারাবি ওয়েলফেয়ারের পক্ষ থেকেও আশরাফুল ইসলাম শেলী এবং মঈনুল ইসলাম ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় শিল্পীদ্বয়ের ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন নিয়েও কৌতূহলী ভক্তরা জানতে চান। শিল্পীরাও ভক্তদের প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দর্শকসারি থেকে জনাব আলমগীর হোসেন মিঠু সম্প্রতি বাংলাদেশি সংস্কৃতিতে ভারতীয় আগ্রাসনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সঙ্গীতসাধক বারী সিদ্দিকী বলেন, ‘হয়তবা আমরা ভালো করতে পারছি না, কিংবা কোথাও কোনো দুর্বলতা রয়েছে যার জন্য ওরা আসতে পারছে। আমরা যদি আমাদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি, তাহলে ওরা আর ঢুকতে পারবে না। এমনিতেই তা বন্ধ হয়ে যাবে। কাজেই আমাদের আগে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। সাধনা করতে হবে। সঙ্গীত হলো একটা সাধনার বিষয়। এমনি এমনি আসে না। সাধনা করতে হয়। গুরু ধরতে হয়। এমনি এমনি যা আসে, তা আবার এমনিতেই মিলিয়ে যায়।

একই প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করেন সুবীর নন্দী। সুবীর নন্দী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি এত ঠুনকো নয় যে, সামান্য বানে তা ভেসে যাবে। বাংলা সংস্কৃতি অনেক বেশি পুরোনো এবং সমৃদ্ধ। ইচ্ছে করলেই এই সংস্কৃতিকে পেছনে ফেলা যাবে না। বরং তারাই এখন বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে ফলো করছে। আমি তো জানি ভারতীয় অনেক প্রতিযোগিতায় বারী ভাইয়ের গান গাওয়া হয়। এটাই আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির স্বীকৃতি। তাই আগ্রাসন করার প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন ওরা কোনো দিনই আমাদের গ্রাস করতে পারবে না। বরং ধীরে ধীরে ওরাই বাংলা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করবে, শিক্ষা নিবে।’

সুবীর নন্দী বলেন, ‘প্রবাস প্রজন্মর মতো একটি সংগঠন যারা বিগত ৬ বছর যাবৎ বাংলাদেশ থেকে গুণীজনদের এনে সম্মান জানাচ্ছে, প্রবাসী শিশু-কিশোরদের উৎসাহ যোগাচ্ছে, বাংলা সংস্কৃতি শেখানোর অনুপ্রেরণা দিচ্ছেÑ এটা বিরল একটি দৃষ্টান্ত। আমি তো মনে করি, জাপানে এর বীজ বপন হলেও বহির্বিশ্বের উচিত জাপানপ্রবাসীদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে স্ব স্ব দেশে শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। হয়ত আগামীতে যা হবেও। নাম ভিন্ন হোক, আদর্শ ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন হলেই হবে।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের সঙ্গে প্রবাসীরা নৈশ ভোজে মিলিত হন। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সাপ্তাহিক-এর টোকিও প্রতিনিধি রাহমান মনি। নিজেরা রান্না করে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করানো হয়। রন্ধন কাজে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, নজরুল ইসলাম রনি, মওলা জাফরি, রাহমান আশিকুর হিরোআকি আশিক, আলি জাবেদ জালাল প্রমুখ। নৈশ ভোজের খাবারের মেন্যুতেও ছিল নতুনত্ব ও ভিন্নতা। আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রবাসী দর্শকশ্রোতারা নৈশ ভোজ আনন্দঘন পরিবেশে উপভোগ করেন।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক