পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে তিন হাজার কোটি টাকা

padmaপ্রায় তিন বছর বিলম্বের ফলে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে ৩ হাজার ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে মূল সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লি.। পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি মূল সেতু নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করেছিল ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লি. প্রায় ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ বা ১ হাজার ৭৫২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা কম দর প্রস্তাব করেছে, ফলে মূল সেতু নির্মাণের কাজ পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১০ সালের ১১ মে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণে প্রাথমিক দরপত্র আহ্বানের সময়ে মূল সেতুর ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৯ হাজার ১২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। চীনা প্রতিষ্ঠানটি কাজ পাচ্ছে ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়। ফলে মূল সেতুর ব্যয় বাড়ছে ৩ হাজার কোটি টাকা। সূত্র জানায়, আর্থিক প্রস্তাবনা মূল্যায়ন শেষে গত রবিবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠায় সেতু বিভাগ।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য চায়না মেজর ব্রিজকে মোট চুক্তি মূল্যের ২৫ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ৩ হাজার ১০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা দেশীয় অর্থে ও ৭৪ দশমিক ৪০ শতাংশ বা ৯ হাজার ২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ডলারে পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে দেশীয় অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে মূল সেতু নির্মাণে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালের মাঝামাঝি পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর ঠিকাদার নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও তা নানা জটিলতায় তিন বছর পিছিয়েছে, ফলে বেড়েছে ব্যয়। চায়না কোম্পানিটি মূল প্রাক্কলনের চেয়ে কম দর প্রস্তাব করায় ব্যয় বৃদ্ধির আকার কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে কারিগরিভাবে যোগ্য অপর দুই প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিএন্ডটি করপোরেশন ও ডেলিম-এলএন্ডটি জেভি আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়নি। ফলে চায়না মেজর ব্রিজের আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০টি প্রতিষ্ঠান প্রাক-যোগ্যতা বাছাই দরপত্রে অংশ নিলে ৫টি যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। পরে বিশ্বব্যাংক কালো তালিকাভুক্ত করায় চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে বাতিল করা হয়। গত ২৬ জুন চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে তিন প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে সবগুলোই কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়। ৬ মার্চ আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হলে নির্ধারিত সময়ে তা জমা দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার দুই প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে স্যামসাং সিএন্ডটি করপোরেশন ১০ সপ্তাহ ও ডেলিম-এলএন্ডটি জেভি ১১ সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মনসেল-এইকম ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) তাতে সম্মত হয়নি। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চায়না মেজর ব্রিজকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করে মনসেল-এইকম ও টিইসি।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু প্রকল্পের অপর তিন অংশ জাজিরা সংযোগ সড়ক, মাওয়া সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এলাকা ২-এর নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

ইত্তেফাক