সিরাজদিখানে মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসে আগুন, নিহত ৩ : আহত ২০

Rais Uddinআপডেট
ইমতিয়াজ বাবুল: সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখান উপজেলার চালতি পাড়ায় দু’টি বাসের মুখোমুখেী সংঘর্ষে চালকসহ ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত ও অপর বাসের চালকসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ২ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সৃষ্টি হয় যানযট। নিহত চালক ও এক যাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেলেও লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় এখনও অপর ১ ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়ার বাসিন্দা পথচারী রাইস উদ্দিন জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সিরাজদিখানের চালতিপাড়া নামক স্থানে ঢাকাগামী ইলিশ পরিবহন (ঢাকা মেট্রো জ-১১-০৯২৯) ও মাওয়াগামী গুণগুণ পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৩২০) দুটি বাসের দুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

ঢাকাগামী বেপরোয়া গতির একটি মটোর সাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাস দুটির মুখোমুখি সংষর্ষ হয়। এতে গুণগুণ পরিবহনের বাসে চালকের সামনের অংশ ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে ভেতরে ডেবে গ্যাস লাইনের পাইপ ফেটে বাসটিতে আগুন লেগে যায়। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুণগুণ পরিবহনের চালক বাদশা মিয়া ও সিরাজদিখান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজিং বিভাগের শিক্ষক রাইস উদ্দিন ও অপর ১ যাত্রীসহ ৩জন ঘটনা স্থলেই মারা যায়। নিহত চালক বাদশা মিয়ার বাড়ি শরিয়তপুর জেলায়। অপর এক ব্যক্তির নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

অপর বাস ইলিশ পরিবহনেরও চালকের সামনে অংশ ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে দেবে গেলে চালক মোঃ শাহিন মিয়া গুরুতর আহত হলে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এঘটনায় ওই চালকসহ কমপক্ষে ২০ যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল বাসার জানান, বাস দুর্ঘটনায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা শুনে সাথে সাথে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশন থেকে অগ্নিনির্বাপক দল গিয়ে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু তার আগেই আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে যায় তিন জনের লাশ। এ ব্যপারে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত্রের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।

এদিকে বাস দুর্ঘটনার পরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দু’দিকে শত শত যান আটকা পড়ে। যানযটে আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘ দেড়া ঘন্টা পর দুপুর ২টার দিকে বাস দুটি মহাসড়কের মাঝ হতে সড়িয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

অপর দিকে সিরাজদিখান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক রাইস উদ্দিনকে খুজে না পেয়ে তার স্বজনরা সিরাজদিখান থানায় গিয়েছিল লাশের সন্ধানে। কিন্তু লাশের শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাইসউদ্দিনের ভাই সাইজুদ্দিন জানান, কুচিয়া মোড়া থেকে তার ভাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত না ফেরায় আমরা তার মোবাইলে কল করে মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি। তাই ধরাণা করেছিল বাস দুর্ঘটনায় তিনিও নিহত হয়ে থাকতে পারেন। কিন্ত লাশ বিকৃত হওয়ায় চিনার কোন উপায় নাই। রাতে তার হাতের আংটি দেখে আমার সিরাজদিখান থানায় তার লাশটি সনাক্ত করি।