সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সিরাজদিখানে গৃহবধূ খাদিজা উদ্ধার হয়নি!

khadijaসপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মুন্সীগঞ্জ সিরাজখিান উপজেলার নিখোঁজ খাদিজা আক্তারকে (১৮) উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পূর্ব রাজদিয়াা গ্রামের রাজন মল্লিকের স্ত্রী খাদিজা ১১ মে রবিবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানা পুলিশ গৃহবধূর স্বা‌মী রাজন মল্লিক ও তার দুই বন্ধু সৈকত ও হোসেন সহ চার জনকে বুধবার রাতে আটক করেছে।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে ছয় দিন পরে গৃহবধ মোসাম্মৎ খাদিজা আক্তরের স্বামী মোঃ রাজন মল্লিক সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিল।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার আফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) মোঃ আবুল বাসার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি চার জনকে আটক করেছি। গৃবধূক উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
khadija
‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা হাসপাতাল, বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়েছি। রাজনসহ ওর বন্ধুদের আটক করে মেয়েটির সম্পর্কে কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গৃহবধূ খাদিজা আক্তারের খোঁজ মিলেনি। তবু খোঁজাখুঁজি অব্যাহত আছে।’

উল্লেখ্য, খাদিজা আক্তার দুই বছর আগে প্রেমকরে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে রাজন মল্লিককে বিয়ে করে। প্রেম ও বিয়ের সকল কাজে রাজনের দুই বন্ধু সৈকত ও হোসেন সর্বাত্মক সহযোগীতা করেন। এর মধ্যে হোসেনের লালসার দৃষ্টি পরে খাদিজার উপর।

বিভিন্ন সময়ে হোসেন খাদিজাকে কু-প্রস্তাব , চিঠি ও গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। এসব কিছু খাদিজা স্বামী রাজনকে বলেও কোন প্রতিকার পায় নি।

নিখোঁজ খাদিজার স্বামী রাজন মল্লিক বলেন, খাদিজা হোসেনের দোকানে জামাকাপড় বানাতে গেলে বিভিন্ন সময়ে একা পেয়ে হোসেন ওকে খারাপ কথা বলতো খাদিজা আমাকে জানালে আমি বন্ধু ঠাট্টা করে বলেছে মনে করতাম সৈকত ও আমার সামনেই বলতো দোস্ত একটা সুন্দরী বউ পাইছত তুই। বউটা আমাগো দিয়া দে। আমি ও আমার শ্বশুর মোঃ বাবুল হোসেন আমার ও আমার শ্বশুর বাড়ির সকল আত্মীয়ের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে পাঁচ দিনে কোথাও খাদিজার সন্ধান পাইনি।

সৈকত ও হোসেন এলাকায় থাকলেও খাদিজা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওদের চলাচলে অনেক অস্বাভাবিক আচর লক্ষ করা যাচ্ছে।

খাদিজার বাবা মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, আমি সকল আত্মিয় ও যাওয়ার সম্ভাব্য জায়গায় আমার মেয়ে খাদিজার খোজ করেছি। আমার মেয়ে জামাই রাজন মল্লিকের সাথে অন্য এক মেয়ের সম্পর্ক আছে । সেই সুজোগে তার দুই বন্ধু হোসেন ও সৈকত আমার মেয়েকে জোর করে অন্য কোথাও আটকিয়ে রাখতে পারে। ওরা দুই বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করে।

বিয়ের পর থেকেই নাকি ওর দুই বন্ধুর খারাপ দৃস্টি পরে খাদিজার ওপর। খাদিজা এসব কথা ওর স্বামী রাজন ও বাড়ির অনেককে জানিয়ে ছে। কিন্তু তার পরেও রাজনের বন্ধু হোসেন ও সৈকত জোর করে ওদের বাসায় যেতো। সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আমার মেয়ে এখনও নিখোঁজ। হোসেন, সৈকত ও রাজনই বলতে পারবে খাদিজা কোথায় আছে।

বাংলাপোষ্ট