টঙ্গীবাড়ী পল্লীবিদুৎতের ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্ণীতি : বেপরোয়া ডিজিএম

transব.ম শামীম: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী পল্লিবিদুৎ সমিতির ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন মিটার সংযোগ দিয়ে রমরমা বানিজ্য চলছে। প্রতি গ্রাহকদের কাছ হতে মিটার প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত ৩ মাসে টঙ্গীবাড়ী পল্লিবিদুৎ সমিতি প্রায় ১২ শত গ্রাহকের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পল্লি বিদুৎ সমিতির দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে গ্রাহকসেবা। উপজেলার প্রায় ৪০ জন দালালের মাধ্যমে মিটার বিতরণ করছে অফিস কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকরা তাদের মাধ্যম ছাড়া মিটার আনতে গেলে বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও মিটার পাচ্ছেনা। এছাড়া অনলাইনে আবেদন করার ব্যাবস্থা থাকলেও অধিকাংশ সময়ই পল্লিবিদুৎ সমিতির সার্ভার বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ নিয়ে জনমনে তিব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অফিস সুত্রে জানাগেছে, যেই সময় গ্রাহকরা অনলাইনে কম আবেদন করে সেই সময় কিছু সময়ের জন্য সার্ভার খোলা রাখা হয়। এ ছাড়া অধিকাংশ সময় সার্ভার বন্ধ রাখা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অন-ইচ্ছুক পল্লিবিদুৎতের কতিপয় ইলেকট্রিশিয়ান জানান, প্রতি মিটার বাবদ ডিজিএম গিয়াসউদ্দিকে ১ হাজার, ইঞ্জিণিয়ার সেলিম ১ হাজার ও ইন্সপেকটর সালাম এবং ওয়াজেদকে ৫ শত করে টাকা দিতে হচ্ছে।

এছাড়া মিটার একস্থান হতে অন্যস্থানে হস্তান্তর করার জন্য ৫-৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উপজেলার পাচঁগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী লিটন সরকার জানান, আমি বিদুৎ সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করতে গেলে আমার কাছ হতে ১শত টাকার আবেদন ১ হাজার টাকা নেয় অফিসের দালাল মোস্তাকিন ফকির। এছাড়া পাচঁগাওঁ গ্রামের জলিল ডাক্তার এর নিকট হতে নতুন মিটার সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ১১ হাজার টাকা অগ্রীম নিয়েছে মোস্তাকিন। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও মিটার সরবারহ করা হচ্ছেনা।

চাঠাতিপাড়া গ্রামের কামাল মোল্লা জানান, কিছুদিন আগে আমার বাড়ির সামনে ঝড়ে তার ছিড়ে গেলে তা জোড়া দেওয়ার জন্য আমার কাছ হতে ২ হাজার টাকা আদায় করে নেয় পল্লিবিদুৎ অফিসের লোকজন। এছাড়া পল্লিবিদুৎতের অনুমোদিত ডিলারের নামে কতিপয় তাদের মনোনিত এজেন্ট রড, বোর্ড তার সুইজ বিক্রির নামে অধিকহারে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিদুৎতের নতুন খুটি বসানোর জন্য দুরত্ব অনুযায়ী হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। খুটির দুরত্ব ১ শত ফিটের বেশি হলেই গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী পল্লিবিদুৎ সমিতির ডিজিএম এসএম গিয়াসউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতে তার অফিসে গেলে, সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, বলে আমি আপনাদের তথ্য দিতে বাধ্য নই। আমার অফিসে আপনাদের কে আসতে বলেছে? আপনাদের ডিমান্ড কি তাই বলেন। সাংবাদিকরা বিষয়টির সত্যতা জানতে চেয়ে তার কথা কোড করতে শুরু করলে, সে ক্ষিপ্ত হয়ে আরো জানায়, বাসসের সভাপতি সবুজ আমার ভায়রা হয়। আপনারা যা খুশি লিখেন আমার কিছু করতে পারবেন না। উল্লেখ্য, উক্ত ডিজিএম টঙ্গীবাড়ী পল্লিবিদুৎ সমিতিতে যোগদানের পরে দূর্ণীতির কারনে তার অফিস কয়েকবার ঘেরাও এর ঘটনা ঘটে।