১১ হাজার কোটি টাকায় নির্মাণের প্রস্তাব চায়না মেজর ব্রিজের

padmaপদ্মা সেতু
বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ১১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ। কাজের আদেশ পেলে এ টাকায় তারা মূল সেতু নির্মাণ করে দেবে। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ১৫ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাক্কলন করা হয়। চায়না মেজর ব্রিজ তার চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কমে এ সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।

তবে এখনই তাদের কাজ পাওয়া শতভাগ নিশ্চিত নয়। পদ্মা সেতুর বিদেশী পরামর্শক ও স্থানীয় পরামর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যায়ন রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ, পদ্মা সেতু নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দেয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে-ডেইলিম-এল অ্যান্ড টি জেভি,স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তিনটি মূল পদ্মাসেতু নির্মাণের কারিগরি প্রস্তাব জমা দেয়। তিনটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি প্রস্তাবই যোগ্য বিবেচিত হয়। এর পর প্রতিষ্ঠান তিনটির কাছ থেকে আর্থিক প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুরোধে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয় আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার। সর্বশেষ বর্ধিত সময়ের মধ্যে (২৪ এপ্রিল) একমাত্র কোম্পানি হিসেবে চায়না মেজর ব্রিজ আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়।

একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়টি নানা বিতর্ক ও সন্দেহের সুযোগ করে দিলেও সরকার তাতে গা না করে এ প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সামনে এগুচ্ছে। ইতোমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, তারা চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়ার কথা ভাবছেন। আর সেটি হতে পারে আগামি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কোন কিছু খুঁজে না পাওয়ার প্রেক্ষিতে এই কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতু বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক বিতর্ক হওয়ায় এটি একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সে কারণে হয়তো সরকার যত দ্রুত সম্ভব এর নির্মাণ শুরুর চেষ্টা করছে। সেতু নির্মাণের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রস্তাব নিশ্চিত করতে চাইলে আবার নতুন করে দর প্রস্তাব প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই নতুন টেন্ডারের পক্ষে নয় সরকার।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ সেতু নির্মাণ হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ালীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল পদ্মা সেতু নির্মাণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি আওয়ামীলীগ সরকারের জন্য বড় কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়।

অর্থসূচক