লাশ বাড়ছে মেঘনায়, উদ্ধার ২০

Miraz8মুন্সিগঞ্জ থেকে গজারিয়ার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪ থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে লঞ্চডুবির এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন- শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের জামাল হোসেন শিকদার (৫০), তার ছেলে আবিদ হোসেন শিকদার (২৮), টুম্পা বেগম (৩০), সেতার বেগম (৫০) ও আরিফ (১১)।

নিহত টুম্পার স্বামী লিটনও ওই লঞ্চে ছিলেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার ৮ বছরের মেয়ে সুমনা ও ৬ বছরের ছেলে মাহিম এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

রাত ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শহীদুল ইসলাম ১৫ জনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। কয়েকটি লাশ শনাক্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া রাত সোয়া ২টার দিকে ট্রলারে করে আরো ৫টি লাশ তীরে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায়। এরইমধ্যে লঞ্চটি শনাক্ত করে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করছে প্রত্যয়ের অফিসারসহ ডুবুরিরা।।

এছাড়া ৩০ থেকে ৪০টা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে মেঘনা নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন। নদীর দু’পাড়ে শত শত নারী-পুরুষ ও স্বজনরা ভিড় করছে। মেঘনার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের আহাজারিতে।

ঘটনার পর সন্ধ্যায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান ও বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করছেন।

এছাড়া মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, এএসপি (সদর সার্কেল) এমদাদ হোসেন, ঢাকা থেকে এডিশনাল ডিআইজ (অপরাধ) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। রাত সোয়া ১০টার দিকে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এমপি ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

উদ্ধারকৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে জানান, সদরঘাট থেকে দুপুর একটার দিকে শরীয়তপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয় লঞ্চটি। পথে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটিতে ২০০ থেকে ২৫০ যাত্রী ছিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, লঞ্চের চালক একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলে পাশের একটি শাখা নদীতে যেতে পারতেন। তাতে অন্তত এতো বেশি লোকের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।

এ লঞ্চটি এর আগেও ২বার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বলে জানা গেছে।

তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার এ এস এম সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল হাসান ও একই অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুর রহমান।

কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর