মেয়ে আর নাতির লাশের জন্যই কেবল অপেক্ষা এখন!

Miraz125রাজধানীর গার্মেন্টস শ্রমিক মো. আলী। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে শরিয়তপুর নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। লঞ্চ ডুবির পর মেঘনার অথৈ জলে স্ত্রী শিরিনের হাত ধরে আছেন। আর শিরিন বুকে আগলে রেখেছে একমাত্র সন্তান আলামিনকে। হঠাৎ আলীর হাত ছুটে যায় শিরিনের হাত থেকে। শিরিন তলিয়ে যায় অথৈ জলে, সঙ্গে বুকে আগলে রাখা আলামিনও। সাঁতরে পাড়ে উঠে যান আলী। কিন্তু সাঁতার না জানায় একদিন পরেও খোঁজ মেলেনি স্ত্রী আর একমাত্র সন্তানের।

মেঘনার পাড়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে মো. আলী। পাশেই বসা শিরিনের মা। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠছেন শিরিনের মা। বলেন, মাগো আমার আলামিনরে নিজ হাতে শার্ট-প্যান্ট পরাইছিলাম। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলছিলো, নানু তোমার জন্য দাদুরে কমু গোস্ত রাইন্ধা দিতে। আর আমার মাইয়াটা আসার সময় জড়ায়া ধইরা কইল, মা ওষুধ খাইতে ভুইলো না।

শিরিনের মা আর কথা বলতে পারলেন না। মেয়ে আর নাতির লাশের জন্যই কেবল অপেক্ষা এখন।
Miraz125
অপলক মেঘনার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

আলী বিলাপ করছের আর বলছেন, এখন কারে আমি সকালে স্কুলে নিয়া যামু। আমার গলা জড়াইয়া কে বলবে, আব্বা আমার জন্য আইসক্রিম নিয়া আইস। সব হারায়া আমি কেমনে বাঁচুম। আমারেও নিয়া যাও আল্লাহ। আমার হায়াৎ নিতা। ক্যান আমার আলামিনটারে নিলা।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর