মুন্সীগঞ্জের মেঘনায় লঞ্চডুবি : ১৩ মৃতদেহ উদ্ধার

Rmiraz1উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ঘটনাস্থলে
মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি মিরাজ-৪ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে গেছে। তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চাঁদিখাল নামক স্থানে ডুবে যায়।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ছয় শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
Rmiraz1
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। নারী-শিশুসহ এখনও বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে, লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও দুর্বার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষজন নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

লঞ্চ দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। নদীর পাড়ে শত শত স্বজন ও উৎসুক মানুষ ভীড় করে আছে।

এর আগে, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, ঢাকার সদরঘাট থেকে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর যাবার পথে গজারিয়ার চাঁদিখাল নামক স্থানে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি মিরাজ-৪ নামে একটি লঞ্চ ডুবে গেছে বলে আমরা শুনেছি। লঞ্চটি দুপুর আড়াইটার সময় মুন্সীগঞ্জ ঘাট অতিক্রম করে যায়। এ সময় কিছু যাত্রী সেখানে নেমে যায়। লঞ্চটি থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, লঞ্চটিতে তিন শতাধিক যাত্রী ছিল।
Rmiraz2
এদিকে মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

নৌ-বাণিজ্য অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপস সার্ভেয়ার এ এফ এম সিরাজুল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের স্পেশাল অফিসার (মেরিন সেফটি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল হাসানকে সদস্য এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের মূখ্য পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান কমিটির সদস্য-সচিব করা হয়েছে।

দ্য রিপোর্ট