টেনে তোলা হচ্ছে এমভি মিরাজ, ২৯ লাশ উদ্ধার

Miraz131মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমভি মিরাজ-৪ দ্বিতীয় দফায় লিফট্‌ওয়ার লাগিয়ে টেনে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে লঞ্চটির একটি অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। এটিকে টেনে তীরের দিকে নিয়ে আসা হবে, যাতে উদ্ধার কাজ সহজে করা যায়। সবশেষ দুপুর আড়াইটার দিকে ভেসে উঠেছেএকটি লাশ।

এনিয়ে শুক্রবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এরমধ্যে ২৬ জনের লাশ শনাক্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দু’জনের লাশ হাসপাতালের মর্গে ও অপর একজনের লাশ উদ্ধার করে মেঘনা পাড়ে রাখা হয়েছে।

লাশের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে অর্ধশতাধিক।

জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বাংলানিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গজারিয়া উপজেলার দৌলতপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন- শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পাঁচগাও গ্রামের জামাল হোসেন শিকদার (৫০), তার ছেলে আবিদ হোসেন শিকদার (২৮), টুম্পা বেগম (৩০), সেতার বেগম (৫০) ও আরিফ (১১)।
Miraz131
নিহত টুম্পার স্বামী লিটনও ওই লঞ্চে ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার ৮ বছরের মেয়ে সুমনা ও ৬ বছরের ছেলে মাহিম এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ডুবন্ত লঞ্চের দুই মাথায় ক্রেনের সাহায্যে রশি বেঁধে বাধা হয়। পরে টেনে তোলার চেষ্টা কর‍ার একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একপাশের রশি ছিড়ে লঞ্চটি আবার সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।

এর ফলে লঞ্চ উদ্ধার চেষ্টা বন্ধ রয়েছে। পুনরায় লঞ্চের গায়ে ক্রেনের সাহায্যে রশি বাঁধতে দু’তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা।

তবে একাধিক উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, ডুবন্ত লঞ্চে আটকা পড়া লাশ ও মালামালের কারণে লঞ্চের জানালা-দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। তাই টেনে তুলতে সমস্যা হচ্ছে।

এ লঞ্চটি এর আগেও ২বার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল বলে জানা গেছে।

তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার এ এস এম সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল হাসান ও একই অধিদপ্তরের মুখ্য পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুর রহমান।

কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর