মুন্সীগঞ্জে জড়ো হচ্ছে জামায়াত ক্যাডাররা : টার্গেট ঢাকায় নাশকতা

jamatকাজী দীপু: দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর নাশকতামূলক কর্মকা- চালাতে আবারও মুন্সীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার দিনকে সামনে রেখে রাজধানীতে নাশকতামূলক কর্মকান্ড চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে এ গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ পেয়ে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ জামায়াত ও শিবিরের গোপন তৎপরতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জামায়াত নেতাকর্মীরা অন্য জেলা থেকে আসায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশের বেগ পেতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার দিনক্ষণকে সামনে রেখে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকা- চালাতে এবার রাজধানী ঢাকাকে বেছে নিয়েছে। এ কারণে তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী হয়েছে। আর তাদের অবস্থান নিরাপদ রাখতে ও পুলিশের চোখ এড়িয়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা এখনই রাজধানী ঢাকায় না গিয়ে কৌশল অবলম্বন করেছে। এরই অংশ হিসেবে জামায়াত নেতাকর্মীরা ঢাকার পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুরসহ আশপাশ এলাকায় জড়ো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জ ঢাকার পাশের জেলা ও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ এলাকাটিকে নিরাপদ ভেবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অন্য জেলা থেকে আগত জামায়াত ও শিবিরের অনেক নেতাকর্মীর আনাগোনা বেড়েছে। তারা মুন্সীগঞ্জে থাকা দলীয় নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে নাশকতামূলক কর্মকা- চালাতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা তাদের তৎপরতা ও অবস্থান নিরাপদ রাখতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছে। আবার মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোতে তবলিগি সেজেও অবস্থান নিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অন্য জেলা থেকে আগত নতুন নতুন মানুষের পদচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জ জেলায় জামায়াতের তিন শতাধিক রোকন ও শিবিরের ৮ শতাধিক সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ৯০ ভাগ সদস্যের বাড়ি দেশের অন্যান্য জেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে গোপনে দলীয় কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ এসব নেতাকর্মীর অবস্থান জানতে দিনরাত কাজ করছে। পাশাপাশি এসব নেতাকর্মীর ভাড়া বাসাগুলোতে সম্প্রতি অন্য জেলা থেকে আগত দলীয় নেতাকর্মী আশ্রয় নিয়েছে কিনা, তাও পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি টিম।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, জামায়াত ও শিবিরের নাশকতামূলক কর্মকা- ঠেকাতে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো জেলাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে মুন্সীগঞ্জে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে।

বর্তমান