প্রসংগঃ ঢাকা-ইছাপুরা-বেতকা-কালিবাড়ী বাস রুটের ভাড়া

পাঠকের পাতায় আজ কিছু লিখব। জানিনা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নজরে কিংবা পাঠক বৃন্দের কোন উপকারে আসবে কিনা। প্রসংগঃ ঢাকা-ইছাপুরা-বেতকা-কালিবাড়ী বাস রুটের ভাড়া, ভোগান্তি এবং এলাকার উন্নয়নে রাজনৈতিক দর্শন। আমরা যারা চাকুরীজ়ীবি ঢাকা থেকে বাড়ীতে দৈনিক/সপ্তাহে বাসে যাতায়াত করি,

একমাত্র তারাই হাড়ে হাড়ে টের পাই এই রুটে কত কস্ট করে যাতায়াত করতে হয় এবং কত গুন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে। টংগীবাড়ী ও সিরাজদিখান থানার প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এই রুট দিয়ে ঢাকায় প্রতিদিন যাতায়াত করেন। যাত্রী অনুপাতে বাসের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য তারপরও অন্যান্য রুটের অনুপাতে প্রায় দিগুন ভাড়া আদায় করা হয়।

এছাড়া রাস্তার বেহাল দশা এবং ঝুকিপুর্ন যাতায়াত বিশেষকরে নিমতলা থেকে কালীবাড়ী পর্যন্তত আছেই। নিমতলা থেকে কালিবাড়ী পর্যন্ত রুটের প্রশস্ততা অত্যন্ত ঝুকিপুর্ণ, দুটি বাসের সাইড নিতে গেলেই যাত্রীরা তা হাড়ে হাড়ে টের পান জানালা দিয়ে পাশে তাকালেই গা শিউরে উঠে। ইছাপুরা চৌরাস্তা থেকে মোস্তফাগঞ্জ মাদ্রাসার মাঝামাঝি এন্তাজউদ্দিন মিয়ার মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার এক পাশ ডেবে এতই বিপদ জনক অবস্থায় আছে যে, এই পথটুকু ভাড়ি যানবাহন অথবা, লোডক্রিত ট্রাক যেকোন মুহুত্তে দুরর্ঘটনায় পরতে পারে।

তাছাড়া কান্দাপাড়া (সিরাজদিখান-টংগীবাড়ী সংযোগ ব্রীজ) ব্রীজটিতে রাতের বেলায় কোন আলোর ব্যবস্থা ও ব্রীজের দুই প্রান্তে সাইড সুরক্ষা বেস্টনি না থাকায় যে কোন মুহুর্তে ছোট যানবাহন অথবা পথচারি দুর্ঘটনায় নিচে পরে যেতে পারে। এই জনাকীর্ণ রাস্তাটি প্রশস্তকরনের ব্যাপারে জেলা প্রশাষন, সরকার কিংবা অত্র এলাকার রাজনীতিকদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, অথচ দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকা চাদা আদায় হচ্ছে এই রুটের মাধ্যমে।

এইবার আসি বাসের সার্ভিস প্রসংগেঃ… এই রুটে দুই প্রজাতির বাস দেখা যায়, তার একটির নাম সিটিং অন্যটির নাম লোকাল, মজার ব্যাপার হল দুই প্রজাতির বাসের ভাড়া এক। যাহা এক বিড়ল ব্যপার। ঢাকার গুলিস্তান থেকে কালিবাড়ীর দূরত্ত ও গুলিস্তান থেকে মাওয়ার দুরত্তের অনুপাতে ঢাকা-কালিবাড়ীর ভাড়া হওয়া উচিত সব্বোর্চ ৪০-৪৫ টাকা, যেখানে ভাড়া আদায় হ্য় ৬০ টাকা। অথচ ঢাকা–মাওয়ার ভাড়া মাএ ৪০ টাকা।

যেহেতু জনাকীর্ন জনপথ তাই অফিস খোলার দিন যেমন শনিবার, কালিবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলি বেতকা আসার আগেই ছিট ভর্তি হয়ে যায়। তাই বেতকা থেকে মানুষ দাড়িয়ে বা ছাদে চড়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করে এবং এই সুযোগে বাসের হেলপার/কন্ট্রাক্টর বাসের ভিতরে হিমাগারে যেমন আলুর বস্তা স্তুপ করে রাথে, ঠিক তেমনি করে বাসের ভিতরে যাত্রী তোলে। এই অবস্তা যদি বেতকা থেকে শুরু হয় তাহলে পাঠকগণ ভাবুনত পথিমধ্যের পরবর্তী স্টেশনের যাত্রীরা যেমন, কান্দাপাড়া-মালখানগর-ইছাপূরা-সিরাজদিখান-রশুনিয়া এলাকার মানুষগন কিভাবে বাসে চড়বে…? তাড়াত আর ছিটের আশাই করতে পারেনা বরং যুদ্ধ করে কিভাবে একটু বাসের ছাদে উঠা যায়। আমার মত হাজারো ভূক্তভোগী প্রতি সপ্তাহে অফিসে লেট করে প্রবেশ করে এবং মাস শেষে ২-৩ দিনের বেতন কাটার জালা পোহায়।

পাঠকগন আরেকটু ভাবুনতো এই এলাকার মহিলা ও শিশু যাত্রীদের তাহলে কি হাল…? একই অবস্থার উদ্রেক ঘটে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ফিরতে হলে। ঘন্টার পর ঘন্টা গুলিস্তান দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বাসের জন্য তাও আবার স্টেশনে থাকা সব বাস ঠিক সময়ে ছাড়েনা । সব্বোর্চ ভাড়া দেয়ার পরও বাসের হেলপার/কন্ট্রাক্টরদের দুঃব্যবহারত মাঝে মাঝে বারতি পাওনা থাকে সম্মানিত যাত্রী সাধারনের । এমন চিত্র এই রুটে শুধু বৃহস্পতিবার/শনিবারই নয় সারা সপ্তাহ জুড়েই থাকে এমনটি।

আমাদের দেশ দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমার মনে হয় আমরা বিক্রমপুরবাসি দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছি… আমরা সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের রাজনীতিকদের মধ্যে এলাকার উন্নয়নের জন্য কোন ঐক্যবদ্ধ্য প্রচেস্টা নেই। নেই কোন সামাজিক আন্দোলন এই সকল রাস্তাঘাট নির্মাণ কিংবা প্রশস্তকরন কিংবা গণপরিবহন বৃদ্ধিকরন কিংবা গোটা বিক্রমপুরে রেল যোগাযোগ, গ্যাস লাইন স্থাপনের জন্য সরকারের নিকট রাজনৈতিক ভাবে গণচাহিদার উম্মেষ ঘটানো। যদিও আমরা ঢাকার খুব নিকটবর্তী জেলা আমাদের উপর দিয়েই চলে যাবে পদ্মা সেতু/রেল সেতু কিন্ত আমরা কি এসবের কিছু উপভোগ না করেই তৃপ্তির ঢেকুড় তুলব……!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

এল. আর. রুবেল
শিয়ালদী, সিরাজদিখান

এল. আর. রুবেল, মুন্সিগঞ্জ.কমের একজন পাঠক