কমে যাচ্ছে সিরাজদিখানের পান চাষিদের সংখ্যা

panমুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পান চাষিদের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর্থিক সংকট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ না পাওয়া, পান চাষের সঠিক প্রশিক্ষণ না পাওয়া, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, সরকারের সুদৃষ্টির অভাব ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম বেশি হওয়ায় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পান চাষিরা। এছাড়া আপেল ও বাউকুলের বাগান হওয়া, ঘরবাড়ির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়া সহ জমি ভরাট হওয়ায় পানের বরজের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে।

উপজেলার উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। যার পরিমাণ গতবছর ছিল সারে ৫ হেক্টর। উপজেলার রসুনিয়া, বয়রাগাদি, মধ্যপাড়া, মালখানগর, ইছাপুরা ও জৈনসার ইউনিয়নে প্রায় ৪০ টি পানের বরজ চাষ করা হয়েছে বলে জানান এ প্রতিবেদককে।

বড় পাউলদিয়া গ্রামের পান চাষি আঃ হামিদ বেপারী (৭০) জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে ২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পানের বরজ দিয়েছি। এতে কোনো বছর লস হয়, কোনো বছর খেয়ে পড়ে সমান থাকে আবার কোনো বছর লাভও হয়। তিনি আরো জানান, বরজ থেকে পান সংগ্রহ করার সময় এলে পানের রং হলদে হয়ে ঝড়ে পড়ে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে পানচাষিদের।
pan
বরাগদী ইউনিয়নের পান চাষি আবু নাছের হাওলাদার (৫৫) জানান, আমি পান চাষ করে এক ছেলেকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছি ও এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এবার পানে পোকা ধরায় লসের আশঙ্কা প্রকাশ করেন এ প্রতিবেদকের কাছে। চন্দনধূলের আঃ করিম জানান, আমি পান চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। তিনি আরো জানান, পান গাছের রোগ নির্ণয় ও সমাধানের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ নেই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা শোভন কুমার ধর জানান, এ এলাকার পান চাষিরা বিভিন্ন অঞ্চলের পান চাষ দেখে শখের বশবর্তী হয়ে পানের বরজ দিয়েছে। তাছাড়া বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ করা হয়না বলে চাষিদের লসের ভাগ গুণতে হয়।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ