হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য তালগাছ

talgachসিরাজদিখান উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তালগাছ। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তালগাছ রক্ষায় জোরালো কোন পদক্ষেপ না থাকায় ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আগে অপরিচিত মানুষের বাড়ি চিহ্নিত করতে অধিকাংশ সময় তালগাছের সাহায্য নেয়া হতো। তখন এমনিতেই মানুষ রাস্তা বা বিলের পাড়ে এ গাছ লাগাত, আবার প্রাকৃতিকভাবেও তাল বাগানের সৃষ্টি হতো।

প্রখর রোদে ক্লান্ত পথিক ক্ষণিক আশ্রয় নিত তালগাছের ছায়ায়। গামছা বিছিয়ে বসত তাস-লুডু, ১৬ গুটি খেলার আসর। তাল পাকার মৌসুমে পাড়ার দামাল ছেলেদের যাতায়াত বেড়ে যেতো এসব বাগানে। তাল পড়ার ধুম শব্দে ছুটে আসতো কিশোর-কিশোরীরা। শেষ রাতে দূর দূরান্ত থেকে এসব বাগানে দল বেঁধে আসত তাল কুড়ানিয়ার দল। বাড়ির ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা তাল দেখে খুশি হতো। গৃহিণীদের মাঝে চলত তালপিঠা বানানের ধুম।

এসব তাল দিয়ে তৈরি হতো বিভিন্ন মজার মজার পিঠা। কানমুচড়ি, তেলপিঠা, পাতাপিঠা, তালমুঠা, মাল পোয়া, তালের বোড়া প্রভৃতি। এসব পিঠা বানিয়ে আবার পাঠানো হত আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে। এছাড়া কচি তালের শাঁস, তালপানি ও তালের আঁটির তালকুর ছিল শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের লোভনীয় খাবার। গরমের দিনে তালপাখার জুড়ি নেই।
talgach
ঘর নির্মাণের কাজে তালগাছের খামের জুড়ি মেলা বড় ভার। কমলাপুর গ্রামের লোকজন জানান, তালগাছের এসব উপকার ও ঐতিহ্যগত দিক ছাড়াও গ্রামবাংলার সব শ্রেণী-পেশার মানুষের বহুমুখী কাজে লাগে এ গাছ। কিন্তু অযতœ, অবহেলা ও গুরুত্বের অভাবে তালগাছ এখন কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণীর কাঠ ব্যবসায়ী তালগাছ কেটে উজাড় করছে। যে হারে তালগাছ কাটা হচ্ছে, সেই হারে অথবা তার কম পরিমাণ তালগাছ রোপণ করা হচ্ছে না। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে একসময় তালগাছ হারিয়ে যাবে। গ্রামবাসীরা এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ