স্যার, এমপি বলেই কি লাশের গাড়ীর আগে আপনাদের গাড়ী যাবে?

policeমাওয়া ঘাটে ফেরিতে লাশের গাড়ী ও ভিআইপি গাড়ী উঠা নিয়ে পুলিশের সাথে পুলিশের হাতাহাতি হয়েছে। এ নিয়ে পিতার লাশ বহনকারী বংশাল থানার পুলিশ কসষ্টবেল তারিকুল ইসলামকে (নং ১০৪৯৯) মাওয়া নৌপুলিশ ফাড়িতে আটক থাকতে হয়েছে কয়েক ঘন্টা। পরে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সে মুক্ত হয়। মুন্সীগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের এপিএসআই সেলিম ঘটানার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল-১ আসনের সাংসদ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ যাচ্ছিলেন দক্ষিণ বঙ্গে। এ সময় ঢাকার বংশাল থানার কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম তার বাবার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যেতে ফেরির জন্য লাশবাহী গাড়ী নিয়ে ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন।

এ সময় কর্তব্যরত আনসার ও পুলিশ লাশের গাড়ীটি সাইড করে রেখে ভিআইপি গাড়ীর জন্য একটু পথ দিতে বলেন। চটে যান লাশের সাথে থাকা লোকজন। তারা ৪/৬ জন মিলে পুলিশের উপর আক্রমন চালায়। পরে পুলিশে পুলিশে হাতাহাতি হয়। আক্রমনে ট্রাফিক পুলিশের এপিএসআই সেলিমের পোশাক ছিড়ে যায়। একই সময় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ গাড়ী ঘাটে এসে পৌছায়। তখন পুলিশ কনষ্টবেল তারিকুল এই সাংসদকে প্রশ্ন করেন- ‘স্যার আপনাদের আমরা ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছি, তাই বলে কি লাশের গাড়ীর আগে আপনাদের গাড়ী যাবে?’ এরকম প্রশ্নে হতবম্ব হয়ে যায় সাংসদ। পরে ট্রাফিকের টিআই শাহাদাৎ হোসেন বিষয়টি সমাধানে আশ্বাস দেন সাংসদকে। পরে লাশবাহী গাড়ি রেখেই ফেরি ছেড়ে দেয়।

সাংসদ চলে যাওয়ার পর পুলিশ সদস্য তরিকুলসহ লাশের সাথে থাকা ৩ জনকে আটক করে মাওয়া ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে যাচাই বাছাই করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশের উর্ধতন কর্মকতাদের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে শোকাহত পুলিশ তারিকুল ইসলাম তার বাবার লাশসহ পরের ফেরিতে পদ্মা পাড় হন। লৌহজং থানার ওসি আবুল কালাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি পরে সমাধান হয়ে গেছে।

স্বদেশ