মুন্সীগঞ্জের বেড়িবাঁধে বসে লাশ উদ্ধার তৎপরতা দেখেছে নূর হোসেন!

norrকাজী দীপু: নারায়ণগঞ্জের ডেঞ্জারম্যান কাউন্সিলর নূর হোসেন ওরফে হোসেন চেয়ারম্যানকে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করায় মুন্সীগঞ্জের দুই পৌর কাউন্সিলরকে নজরদারিতে রাখছে গোয়েন্দা পুলিশ। সাত খুনে নূর হোসেনকে আসামি করে দায়ের করা মামলায় এই দুজনকেও আসামি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র। স্থানীয় যুবলীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ওই দুই কাউন্সিলর নূর হোসেনের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ।

নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাতজনের লাশ একের পর এক উদ্ধারের দিন ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নূর হোসেন ওরফে হোসেন চেয়ারম্যান মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীঘেঁষা বেড়িবাঁধে বসে উদ্ধার তত্পরতা প্রত্যক্ষ করেছে বলে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে। সে সময় তিনি বেড়িবাঁধে বসে ‘বিয়ার’ খেয়েছেন বলে স্থানীয় এক ড্রেজার ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। আর এ সময় নূরের নিরাপত্তা দিতে দলীয় কর্মী বাহিনী নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন স্থানীয় যুবলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মুন্সীগঞ্জের দুই পৌর কাউন্সিলর।
1

2

3

4

5
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, লাশ উদ্ধারের দিন নূর হোসেন ওরফে হোসেন চেয়ারম্যান নদীপথে মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষ্মীগঞ্জে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বেড়িবাঁধে বসেছিলেন। এ সময় তার সন্ত্রাসী বাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে পাহারা দেয়। তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পুলিশের তত্পরতার তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন মুন্সীগঞ্জের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ ও পাঁচঘরিয়াকান্দি এলাকার দুই পৌর কাউন্সিলর ও তাদের দলীয় কতিপয় নেতাকর্মী।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির নির্দেশে ওই দুই কাউন্সিলর হোসেন চেয়ারম্যানকে পালাতে সহযোগিতা করার বিষয়টিও নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ পর্যবেক্ষণে রাখছে।

সদর থানার অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নূর হোসেনকে আত্মগোপনে যেতে মুন্সীগঞ্জের দুই পৌর কাউন্সিলের সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে নারায়ণগঞ্জের ডিবি পুলিশের একটি টিম মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে দুদিন রাতভর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেছে। তিনি জানান, তদন্ত শেষে নূর হোসেনকে সহযোগিতা করার অপরাধে মুন্সীগঞ্জের দুই পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এমনকি তাদের মামলার আসামিও করা হতে পারে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এরই অংশ হিসেবে পুলিশের একটি টিম মুন্সীগঞ্জের দুই পৌর কাউন্সিলরের গতিবিধি এবং তাদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহসহ পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ইতিমধ্যে দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ও প্রকাশ্যে পুলিশের সামনেই অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, যে সময়ে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনের লাশ উদ্ধার কাজে ব্যস্ত সবাই, সেই সময় নূর হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর তীরে হাটলক্ষ্মীগঞ্জের বেড়িবাঁধে বসে বিয়ার খেয়েছেন। এ খবর পেয়ে ওই রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু খবর পেয়ে আগেই হোসেন চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডার বাহিনী স্পিডবোট দিয়ে ধলেশ্বরী হয়ে পূর্ব দিকে মেঘনা নদীর দিকে চলে যায়। পুলিশ ওই দিন রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ শহরের ঘনবসতি এলাকা হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। এরপর বিষয়টি জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জের ডিবি পুলিশ কয়েক দফা মুন্সীগঞ্জে গিয়ে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, পাঁচঘরিয়াকান্দি ও পৌরসভা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সম্ভুপরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালায়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধারের দিন হোসেন চেয়ারম্যান মুন্সীগঞ্জে আত্মগোপনে খবর পেয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমান