পাল্টে গেছে মাওয়ার পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকার চিত্র

২০১৩ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা বারবার বলা হলেও বছর শেষে ঘুরে ফিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ও পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা পদ্মা সেতুর বাস্তব নির্মাণকাজ দেখতে পারেননি । সে সময় আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকাল ঘনিয়ে আশার সাথে সাথে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর জনমনে সরাসরি শঙ্কা বেড়েছিল।

এতে করে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। বহুল প্রতীক্ষিত এ সেতু নিয়ে তবুও একটিই প্রশ্ন-কবে নাগাদ শুরু হবে এর বাস্তব নির্মাণ কাজ।

এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে কয়েক মাসের মধ্যেই পাল্টে যায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা তথা এ অঞ্চলের পদ্মাপাড়ের চিত্র । সরকার মেয়াদের শুরুতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে আনুসাঙ্গিক কাজের দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে । সম্প্রতি মাওয়ায় পদ্মা সেতু নিয়ে চলছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে আনুসাঙ্গিক কাজের দ্রুত অগ্রগতি আর ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। সেতুর এ্যাপ্রোচ রোড ও তীর রক্ষা বাঁধ, নদী শাসনসহ সব কাজে যেন নতুন করে বিশেষ গতি পেয়েছে।

একইসাথে মূল সেতুর কাজে বাধাগ্রস্থ হওয়ার কারণে বর্তমান মাওয়া ঘাট সরিয়ে নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এরই আলোকে মাওয়া ঘাটকে পার্শ্ববর্তী শিমুলিয়ার স্থানান্তরের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে মাওয়ায় এক নতুন কর্মব্যস্ততা চলছে সেতুকে ঘিরে। সেনাবাহীনির ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগ্রেডের তত্ত্বাবধানে নিখুঁতভাবে পরিচালিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর প্রকল্প কাজ। এর আগে পুনবার্সন, জমি অধিগ্রহনসহ অনেক কাজই প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু এলাকার মাওয়ায় ব্যাপক ভাঙন ঠেকাতে ও এ অঞ্চলের বাড়ি ঘর রক্ষা করতে জরুরী আপদকালীন প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। প্রায় ১শ’ ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নক্সা অনুযায়ী ১৩শ’ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনী প্রায় শেষ করে এনেছে। ১৪ লাখ জিও ব্যাগ ভর্তি বালু নদীতে ফেলার কাজ ৮৫ ভাগের বেশী শেষ হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও জরুরী ভিত্তিতে এ তীর রক্ষা বাঁধ দিয়ে পদ্মা সেতুর এ এলাকাকে নদী ভাঙার হাত হতে রক্ষা করা হচ্ছে।

এছাড়া মাওয়া ঘাটকে শিমুলিয়ায় স্থানান্তরের কাজও সেনা বাহিনী ও বিআইডব্লিউটিএ শুরু করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনী প্রায় আড়াই কি.মি রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তবে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে আরো পূর্ব দিকে কান্দিপাড়ায় ঘাট সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।এ স্থায়ী ঘাট নির্মাণ করতে প্রায় ১ বছর সময় লাগতে পারে। যেহেতু পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শুরু হচ্ছে,তাই জরুরী ভিত্তিতে মাওয়া ঘাটকে শিমুলিয়ায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।

তাছাড়া মাওয়া চৌরাস্তা থেকে দোগাছি পর্যন্ত প্রায় ২কি.মি. এপ্রোচ রোডের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। মূল সেতুর কাজ শুরুর পূর্বেই এ কাজ শেষে করা যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, নদী শাসনের জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্পের অওতায় আরো ৭ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নদী শাসনের কাজকে বেশী গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য আগমী ২৯ মে প্রকল্পের নদীশাসনের কাজের আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করবে ৪টি প্রতিষ্ঠান। যোগাযোগমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, নৌ মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরজমিন ঘন ঘন তদারকি কাজের গুনগত মান এবং গতি দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজের অগ্রগতির কারণেই জুনের প্রথম সপ্তাহে মূল সেতুর কার্যাদেশ দেয়া হচ্ছে। তাই স্বপ্নের সেতুর বাস্তবতার চিত্র দেখে খুশি পদ্মাপাড়ের এ প্রান্তের মানুষ।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা