দখল ও কমিটি জটিলতায় ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্যবাহী মিরাপাড়া মাজার

miraparaMajarহারাতে বসেছে মুন্সীগঞ্জের মিরাপাড়া মাজারের ঐতিহ্য। দখলদারদের কবলে নিজস্ব সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি পরিচালনা কমিটি নিয়ে দ্বন্দের জাল ক্রমাগতভাবে বেড়ে উঠেছে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিতে। জোড় করে মোতওয়াল্লির পদ দখল করে নেয়া এবং অনুমোদিত কমিটিকে ক্ষমতা বুঝিয়ে না দেয়ার মত নিকৃষ্ট ঘটনাও রয়েছে ধর্ম প্রচারক মীর সাহেবের মাজারটিতে।

মুন্সীদগঞ্জ সদর উপজেলা মিরকাদিম পৌরসভাস্থ মিরাপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মাজারটি অবস্থিত। কথিত আছে প্রায় ৫শ’ বছর আগে ধর্ম প্রচারক মীর সাহেব ধর্ম প্রচারকালীন অবস্থায় এখানে মৃত্যুবরন করেন। দীর্ঘ সময় পর শতক বছর আগে তার নামানুসারে গড়ে উঠে মিরাপাড়া মাজারটি।

স্থানীয় ধর্ম ভীরু আব্দুল হামিদ মিয়া ১৯৬৯ সালে এষ্টেটের জন্য ৭৫ শতক সম্পত্তি ওয়াক্ফা করেণ এর পর থেকে ইমারতসহ নানা জাকজমকভাবে সাজানো হয় মাজারটি। মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর পরিমাণ নারী-পুরুষ তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সদস্যদের নানা সমস্যা নিয়ে হাজির হন এই মাজারটিতে। মানতের গরু-ছাগল, মূরগী ও নগদ অর্থের বিশালত্ত্ব এই মাজার কমিটিকে মারাত্মকভাবে লোভে ফেলে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নেতৃত্ব নিয়ে চলে মামলা ও হামলার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

সর্বশেষ গত ২০১২ সালের ১০ই জানুয়ারি ৩ বছরের জন্য বাংলাদেশ ওয়াক্ফা কার্যালয় থেকে হাজী শফিউদ্দিন আহম্মেদকে মোতওয়াল্লি বা সভাপতি করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলেও শিল্পপতি শহিদুল্লাহর অর্থ শক্তি ও পেশীশক্তির দাপটে আজও ক্ষমতায় যেতে পারেনি হাজী শফিউদ্দিন। সহকারী ওয়্কাফা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মেদ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শফিউদ্দিনকে ক্ষমতা বুঝিয়ে দেবার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসককে বারবার লিখিত নির্দেশ দিলেও জেলা প্রশাসক কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি।

অন্যদিকে শহিদুল্লাহ এই প্রতিবেদকে বলেন, তিনি ১২ বছর ধরে এই মাজারের মোতওয়ল্লি ছিলেন, এখনো আছেন। শফিউদ্দিনকে ওয়াক্ফা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কমিটি পরিচালনার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। এখানেই শেষ নয়-আব্দুল হামিদের সুষ্পষ্ট ওয়ক্ফাকৃত ৭৫ শতক সম্পত্তি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুল করিম বেপারী ৩৬ শতক সম্পত্তি শহিদুল্লাহকে মোতওয়াল্লি করে তার নামে ওয়াক্ফা লিখে দেন। যেটা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত।

অন্যদিকে, শফিউদ্দিন দায়িত্ব বুঝিয়ে নিতে অপারগ এমন অজুহাতে মেয়াদ উর্ত্তীণের আগেই গত বছরের ৭ই নভেম্বও ৭ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয় এবং নতুন এই কমিটির বিরুদ্ধে ৬ মাসের জন্য হাই কোর্টের একটি স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়।

এদিকে এলাকাবাসী সরকারের প্রতি ঐতিহ্যবাহী এই মাজারটির ঐতিহ্য ধরে রাখার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি পবিত্র এই মাজারটির সম্পত্তি নিয়ে যারা দখলদারিত্বের খেলায় মেতেছে তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

One Response

Write a Comment»
  1. Brother please say Hazi Shafiuddin ahmed.