সিরাজদিখানে চার মাসে ৪ হত্যা, এক লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ৪ মাসে ৪টি হত্যাকাণ্ড ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চুরি, ডাকাতিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে পুলিশ দাবি করেছে।

জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি সোমবার সকালে পুলিশ লতব্দি ইউনিয়নের রামানন্দ এলাকার সড়কের পাশ থেকে জামিল হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রাতে এ যুবককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা ভাড়া বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করেছে। একই মাসে সিরাজদিখানের চালতিপাড়া গ্রামের জিন্নত আলীকে (৪৫) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে ২৬ জানুয়ারি পুলিশ চালতিপাড়ার একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত জিন্নত আলী চালতিপাড়া এলাকার আফসারউদ্দিন মিয়ার ছেলে। ১৮ এপ্রিল রাতে সিরাজদিখানের সিঙ্গারটেক এলাকায় তোতা মিয়া (১৮) নামের এক অটোরিকশা চালককে ছুরিকাহত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরদিন সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। সর্বশেষ ৪ মে মাসে সিরাজদিখানের চাইনপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে সুজন হাওলাদার (৩২) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে ধারণা করলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এ হত্যার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তাও শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ।

অন্যদিকে ২১ এপ্রিল দুপুরে সিরাজদিখানের নিমতলা এলাকার ধানের জমি থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা তাকে হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় তাও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাসার জানান, মাদক ও জুয়া খেলার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পৃথক পৃথক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টাসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। বর্তমানে সিরাজদিখান থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।

দৈনিক বর্তমান