মুন্সীগঞ্জের দুই মঠ

sr1প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুর, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ। এখানকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে নানান প্রাচীন স্থাপনা। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন শ্যামসিদ্ধির মঠ এবং সোনারং জোড়ামঠ। প্রথমটি শ্রীনগর উপজেলায় আর অন্যটি টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত।

ঢাকা থেকে দিনে দিনে দেখে আসা যায় প্রাচীন এ স্থাপনা দুটি।

শ্যামশিদ্ধির মঠ
মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর বাজারের পশ্চিম দিকে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে অবস্থিত এ মঠ। এর দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথের উপরে রয়েছে বাংলা শিলালিপি। সেটা থেকে জানা যায় ১৮৩৬ সালে বিক্রমপুরের জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তি শম্ভুনাথ মজুমদার এটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি আছে সম্ভুনাথ স্বপ্নে তার স্বর্গীয় পিতার চিতার উপরে মঠ নির্মাণের নির্দেশ পান। তারপর তিনি এই স্থাপনা তৈরি করেন।
ss1

ss2
প্রায় ২৪১ ফুট উঁচু এই মঠ দিল্লীর কুতুব মিনারের চেয়েও পাঁচ ফুট উঁচু। তাই এটি ভারত উপমহাদেশের সর্বোচ্চ মঠ। অষ্টভুজ আকৃতির এ মঠের দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ২১ ফুট। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি মঠের দেয়াল বেশ পুরু।

প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে এখনো প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় করে শ্যামসিদ্ধিতে। মঠের উপরের দিকে বাইরের দেয়াল জুড়ে অনেক খোড়ল। এগুলোতে বাসা বেঁধেছে শত শত সবুজ টিয়া, ঝুটি শালিক। তাই মঠটি সবসময়ই পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে।

একেবারেই অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে মহামূল্যবান এ স্থাপনা। মঠের গায়ের মূল্যবান পাথর, পিতলের কলস খোয়া গেছে বহু আগে। সবশেষে ১৯৯৫ সালে চুরি হয়ে যায় মঠের ভেতরে রাখা তিন ফুট উঁচু কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ। মঠের বহু পুরানো নকশা করা কাঠের দরজা জানালাও খোয়া গেছে অনেক আগে। এতকিছু চলে গেলেও প্রাচীন এই মঠের সৌন্দর্যে সামান্য ভাটা পড়েনি।

তবে এর সৌন্দর্যে অনেকটাই ব্যাঘাত ঘটিয়েছে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর। সংস্কার কাজের জন্য মঠের বাইরের দিকে কয়েক বছর ধরে বাঁশ বেধে রাখা হলেও সংস্কারের নাম নেই। শুধুমাত্র মঠের বাইরের দিকে সতর্কবাণী সংবলিত একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে দেশের প্রাচীন স্থাপনা দেখভাল করার সরকারী এ সংস্থা।

শ্রীনগর থেকে সহজেই রিকশায় করে শ্যামসিদ্ধি গ্রামে যাওয়া যায়। রাজধানীর গুলিস্তান থেকে শ্রীনগরের বাসে ছাড়ে।

সোনারং জোড়া মঠ
টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত পাশাপাশি দুটি মঠ। মন্দিরের একটি নামফলক থেকে জানা যায় রূপচন্দ্র নামে এক হিন্দু বণিক জোড়া মঠের নির্মাতা। স্থাপনা দুটি মঠ নামে পরিচিতি পেলেও আসলে এগুলো হিন্দু মন্দির।

দুটি মন্দিরের বড়টি কালীমন্দির আর ছোটটি শিবমন্দির। রূপচন্দ্র মন্দির দুটি যথাক্রমে ১৮৪৩ ও ১৮৮৬ সালে নির্মাণ করেন।

চুন-সুড়কি আর ইট দিয়ে তৈরি এই স্থাপনা দুটিরই প্রধান উপাসনালয় কক্ষের সঙ্গে রয়েছে বারান্দা। মন্দিরের সামনে আছে বড় আকারের একটি পুকুর। জনশ্রুতি আছে বড় মন্দিরটি নির্মাণের সময় এ পুকুরটি খনন করা হয়।

এই মন্দির দুটির বাইরের দেয়ালেও আছে অসংখ্য ফোকর। যাতে নানান পাখির বাস। তাই জোড়ামঠ দেখার সঙ্গে সঙ্গে এখানে নানান পাখিরও দেখা মিলবে।

এই স্থাপনা থেকেও অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে বিভিন্ন সময়ে। মন্দিরের শিখরে দণ্ডায়মান ত্রিশুলটি বাঁকা হয়ে আছে। এটিও কয়েকবার চুরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।
sr1

sr2

sr4
মন্দিরের দেয়াল অযত্ন অবহেলায় খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ধরেছে বড় ধরনের ফাটল। এ স্থাপনাগুলোতেও প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড টাঙানো ছাড়া আর কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি।

শ্রীনগর থেকে লোকাল বাস যায় টঙ্গীবাড়ী। এছাড়া ঢাকার গুলিস্তান থেকেও বাসে চড়ে টঙ্গীবাড়ী যাওয়া যায়। সেখান থেকে অটো রিকশায় যাওয়া যাবে সোনারং গ্রামে।

তবে এ ভ্রমণ সুন্দরভাবে উপভোগ করতে চাইলে নিজস্ব বাহন নিয়ে যাওয়া ভালো। সে সামর্থ না থাকলে কয়েকজন মিলে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া যেতে পারে।

মুস্তাফিজ মামুন, বিডিনিউজ