গজারিয়া গণহত্যা দিবস : শহীদের তালিকা হয়নি

gano71aগজারিয়া গণহত্যা দিবস ০৯ মে, শুক্রবার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের এ দিনে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ফুলদী নদী তীরের গ্রামগুলোতে সংঘটিত এ ‘ক্লিন অপারেশনে’ ৩৬০ জন শহীদ হন। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও সংরক্ষিত হয়নি দিবসটির ইতিহাস ও শহীদদের তালিকা।

ওই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জেলার মেঘনা ও মেঘনার শাখা নদী ফুলদী তীরের গোসাইর চর, নয়নগর, বালুর চর, বাঁশগাঁও জেলেপাড়া, ফুলদী, নাগের চর, কলসেরকান্দি, দড়িকান্দি ও গজারিয়া গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালায়। আহত হন আরও শতাধিক শিশু ও নারী-পুরুষ। হরণ করা হয় শতাধিক মা-বোনের ইজ্জত। শহীদদের দাফন করার মতো পর্যাপ্ত লোক না থাকায় দিতে হয় গণকবর।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তিরা জানান, হানাদারদের চালানো সে গণহত্যা ও নির্যাতনের কথা এখনও ভুলতে পারেননি তারা। ওই গণহত্যার ক্ষত তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন। এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন গজারিয়ার গোষার চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সে কথা ফাঁস হয়ে গেলে তারা এ গণহত্যা চালান।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে সংগঠিত গণহত্যাগুলোর মধ্যে গজারিয়ার গণহত্যা অন্যতম। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও শহীদদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়নি, স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত হয়নি স্মৃতিফলক। এমনকি গণকবরগুলোও চিহ্নিত করা হয়নি। তাদের স্মরণে আয়োজন করা হয় না কোনো স্মরণসভা।

গজারিয়া গণহত্যার বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

দ্য রিপোর্ট