রাত যতবেশি হয় মাওয়া ঘাটে পুলিশের চাঁদাবাজি তত বৃদ্ধি পায়!

ভোগান্তির শিকার ভূক্তভোগী গাড়ি চালকরা : লাঞ্চিত-সাংবাদিক
মোঃ রুবেল ইসলাম: লৌহজংয়ের মাওয়া ঘাটে পুলিশ প্রকাশ্য দিবালোকে ফিল্মি ষ্টাইলে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের লাঞ্চিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে বলে জানা গেছে।

মাওয়া ঘাটের যানবাহনের সিরিয়াল মেইনটেইন করার দায়িত্বে থাকা নৌ-পুলিশ কনস্টেবল সাইদ ও মারুফ এ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে প্রতক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগী গাড়ি চালকরা। পেছনে থাকা প্রতিটি মালবাহী ট্রাক থেকে ২৫শ, ৩ হাজার করে টাকা নিয়ে আগে ভাগে ফেরি পারাপারের সুযোগ করে দেয়। অথচ ৪/৫ দিন ধরে যে গাড়ি লাইনে দাড়িয়ে রয়েছে তারা ফেরি পরাপারের সুযোগ পাচ্ছে না।

ভোলা, বরিশাল,পিরোজপুর, পটুয়াখালী, মদারীপুর গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের ২১ টি জেলার আসা যাওয়ার মালবাহী ট্রাক মাওয়া ঘাটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ফেরিতে উঠতে হলে পুলিশকে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ৪/৫ দিন এই ঘাটেই পড়ে থাকতে হয় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো। এতে করে কাঁচামালের ব্যাপক পচন ধরে যায় ট্রাকের মধ্যেই।

এই দিকে রাত ৮ টা থেকে শুরু করে রাত ১২ টা পর্যন্ত যে টাকা দেয় তাদের গাড়িই ফেরিতে উঠার সুযোগ মেলে। ৩০ এপ্রিল বুধবার এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নৌ-পুলিশ কনস্টেবল সাইদ ও মারুফ, দৈনিক ভোরের কাগজের লৌহজং প্রতিনিধি রুবেল ইসলামসহ কয়েক জন সংবাদ কর্মীকে ওই পুলিশ কনস্টেবলরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রুবেল প্রতিবাদ করলে সাইদ ও মারুফ গোপালগঞ্জের লোক বলে আমরা চাঁদা নেই পারলে কিছু করিস হুমকি দেয় এবং তাদের লাঞ্চিত করে।

মাওয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে প্রায় ৮ মাস ধরে চলছে এ চাঁদাবাজির ঘটনা। যে গাড়ি থেকে পুলিশকে টাকা দেয় সে আগে ফেরি পারাপার হতে পারে। মাওয়া ঘাটের দু’পারেই এ চাঁদবাজির ঘটনা ঘটছে। নোয়াখালি থেকে আসা অপূর্ব এন্টারপ্রাইজ নামক পণ্যবাহী ট্রাকের ড্রাইভার শেখ বাবুল জানান পুলিশকে টাকা না দিতে পেরে ২ দিন যাবত ফেরি পারাপারের অপেক্ষা করছি অথচ ৩/৪ ঘন্টা আগে আসা গাড়ি ফেরিতে উঠে গেল। ঘোষের বিনিময়-মাওয়া পুলিশ ফারির ইনচার্জ এসআই খন্দকার খালিদ হোসেন জানান ফেরিঘাটে অতিরিক্ত মালবাহী গাড়ির ভিড় সামাল দিতে পুলিশের হিমশিম খেতে হয়। তবে চাঁদাবাজির ঘটনাটি অসত্য। চা পান খরচ বাবদ কিছু টাকা নেই, যতদিন মাওয়ায় আছি ততদিন এ টাকা নিবই। হয় পুলিশে চাকরি থাক বা না থাক আমরা থানা জেলায় দিয়েই খাই মিডিয়া কেন আসবে সংবাদ সংগ্রহ করতে?