নানা সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে সিরাজদিখানের মৃৎশিল্প

sMsসিরাজদিখান উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংকটের মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় উপকরণের দ্ষ্প্রুাপ্যতা ও মূল্য বৃদ্ধি, ক্রেতা স্বল্পতা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ না পাওয়া, অর্ডার কম আসা, তাদের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকাতার অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শিল্প কারখানায় উৎপাদিত তেজসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে শিল্পীরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

সিরাজদিখান উপজেলার আবিরপাড়া, চোরমর্দ্দন, উত্তর রাঙ্গামালিয়া, তালতলা, শেখের নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরী হাড়ি, পাতিল, কড়াই, ঝাজড়, কাহা, সরা, লোটা, আউত্তা, মটকি, মাইট, দইয়ের তেলাইন, ফুলের টব, ডাবর, ঢাকনা, খাঁসা, কলসি, মাটির ব্যাংক, প্রদিপ, হাতি, ঘোড়া সহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র এবং গ্রামবাংলা এমনকি শহরেরও এমন কোনো পরিবার ছিলনা যে, তারা ব্যবহার করতেন না। কালের আবর্তে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মৃৎশিল্পীদের হাতে তৈরী ঐসব তৈজসপত্রের চাহিদা একেবারে কমে গেছে। আবির পাড়ার পুষ্প জানালেন মৃৎশিল্পের সমস্যার কথা। তিনি বলেন আমি একাজ ছাড়া অন্য কাজ পেলে এটি ছেড়ে দিব। এপেশায় থাকতে আর ইচ্ছে হয়না। ছেলেরা কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনা। বর্তমানে মাটি ও জ্বালানি সমস্যা মুখ্য। সে বেশিদিনের কথা নয় ১০-১২ বছর আগে মাঠে-ঘাটে, রাস্তার আশপাশের নয়নজুলি হতে পর্যাপ্ত মাটি এমনিতেই পাওয়া যেতো।
sMs
পাশাপাশি জ্বালানিও প্রচুর পাওয়া যেতো। এখন পাওয়া গেলেও চড়া দামে ক্রয় করতে হয়। আবার অনেক সময় টাকা দিয়েও মিলতে চায়না। একাজে পরিশ্রমও প্রচুর। শ্রমের তুলনায় ঐসব তৈরী সিনিসপত্রেরও উপযুক্ত মূল্য পাওয়া যায়না। এছাড়া আধুনিক জিত্রিসপত্রের সংগে ব্যাপক প্রতিযোগিতা। যেমন প্লাস্টিক, এলুমোনিয়াম, কাঁসা, সিলভার, স্টিল সহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী মাটির তৈরী তৈজসপত্র বিকল্প স্থান দখল করে নিয়েছে। ফলে মৃৎশিল্পীদের হাতের তৈরী জিনিসপত্রের চাহিদা কম। তবে দইয়ের পাত্র ও নার্সারিতে ব্যবহৃত গাছের পাত্রের চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিনে জানাযায়, মৃৎশিল্পীদের সমস্যা মিটানোর জন্য সরকারিভাবে কোনো ঋণ দেওয়া হয়না। জ্বালনী মাটি সঙ্কটসহ বিভিন্ন কারণে মৃৎশিল্পের প্রসারতা হ্রাস পাওয়ায় পাল বা মৃৎশিল্পিদের পেশার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ এ পেশা ছেড়ে, দর্জি, কাপড়, রেডিওর মেকার, মোবাইল মেকার, ওষুধ, বয়লার ব্যবসাসহ অন্যান্য দিকে ধাবিত হচ্ছে।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ