তিতাস গ্যাস কোম্পানীর কর্মচারীদের কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য

গজারিয়ার ঘরে ঘরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঘরে ঘরে এখন অবৈধ গ্যাস সংযোগ। এমনকি উপজেলা প্রশাসনও এ অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করছেন। একটি প্রভাবশালী চক্র তিতাস গ্যাসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারি ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ১৪টি গ্রামে অন্তত ১৩-১৪ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। চোরাই গ্যাস চক্রটি এক লাইজার বাবদ প্রতিজন থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকার নিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা-বাখরাবাদ গ্যাস লাইন থেকে চুরি করে নিয়ে এ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে হামলা, মিছিল ও থানা ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এ চোর চক্রের মধ্যে রয়েছে বাউশিয়ার লালন মিয়া ও রবিন্দ্র, বালুয়াকান্দির লিখন, লিংকন, পোড়াচক বাউশিয়ার মাহেদুল ইসলাম বাবু, রূপগঞ্জের লিটন, মুন্না, লক্ষীপুরার সায়েম, ভবেরচরের শাহীন, ভবেরচর কলেজ রোডের শফিক সিকদার, নাসির সরকার, হোগলাকান্দির ডা. মোশাররফ হোসেন, সাবেক কমিশনার জাহাঙ্গীর, লক্ষীপুরার মতিন মেম্বার, প্রমুখ। আর এসব চোরাই গ্যাস সংযোগের মধ্যে রয়েছে বালুয়াকান্দিতে ১ হাজার ২০০ লাইজার, তেতৈইতলায় ৩০০টি লাইজার, হোগলাকান্দিতে ৬০০টি, লক্ষীপুরায় ৭০০টি, পুরান বাউশিয়ায় ১ হাজার ৫০০টি, মনারকান্দিতে ৪০০টি, ভবেরচরে ১২০০-১৩০০টি, টেঙ্গারচরে ৭০০টি, জামালদিতে ৩ হাজার, মাথাভাঙ্গায় ৭০০টি, হোসেন্দিতে ৭০০টি, চরপাতালিয়ায় ৫০০-৬০০টি, আনারপুরায় ৫০০-৬০০টি ও আলীপুরায় ৪০০-৫০০টি লাইজার।

এদিকে, এ অবৈধ গ্যাস সংযোগকে কেন্দ্র করে গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি গজারিয়ায় হামলা, মিছিল ও থানা ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ওইদিন উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি লিয়াকত (৩৩)-কে পুলিশ আটক করেছে। জানা গেছে, গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার দিকে ভবেরচর গ্রামের সৈনিক লীগ নেতা লিয়াকত ও তার ভাগিনা ভবেরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদ হোসেন হোগলাকান্দি গ্রামে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিতে যায়। এ সময় হোগলাকান্দিসহ আশপাশের কাউনাকান্দি ও শ্রীনগর গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সকাল ৯টার দিকে ভবেরচর এলাকায় ভবেরচর দাসপাড়া গ্রামের অমূল্য সূত্রধরের ছেলে সজল সূত্রধর (২২)-কে মারধর করে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামবাসী মিছিল নিয়ে গজারিয়া থানা ঘেরাও করে। পরে পুলিশ লিয়াকতকে আটক করলে তারা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। এ ঘটনায় সজল বাদী হয়ে সৈনিক লীগ নেতা লিয়াকত ও তার ভাগিনা ছাত্রলীগ নেতা ফরিদকে আসামি করে গজারিয়া থানায় মামলা করে। এ ব্যাপারে গজারিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এটিএম মাহবুব-উল করীম জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে আমি ভালোভাবে অবগত রয়েছি। গজারিয়া সংলগ্ন সোনারগাঁ তিতাস গ্যাস কোম্পানীর কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে ও মোবাইলে ফোন করে অনুরোধ করার পরও কোন সাড়া মেলেনি। আগামী সংখ্যায় দেখুন গজারিয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ