পদ্মা সেতু নিয়ে ‘রাজনৈতিক খেলা’ ছিল: প্রধানমন্ত্রী

padmaপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংকের সরে যাওয়াটি ‘রাজনৈতিক খেলা’ ছিল। শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তবে ‘খেলাটি’ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) ৫৫তম কনভেনশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পদ্মা সেতু নিয়ে যে খেলা হয়েছিল, সেটা আসলে কিছুই না, রাজনৈতিক খেলা।”

দীর্ঘ টানাপড়েনের পর বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ না নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে দেশর দীর্ঘতম পদ্মা সেতু নির্মাণের দিকে এগোচ্ছে সরকার।

“আমরা ঠিক করেছি, এটা আমরা নিজেরাই করব,” বলেন হাসিনা।

২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু নির্মাণে ২০১১ সালে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হলেও পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি ঝুলে যায়।

দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে গত বছর জানুয়ারিতে দেশের সবচেয়ে বড় এ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নে বিশ্ব ব্যাংককে ‘না’ বলে দেয় সরকার।

বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে যেভাবে পরিকল্পনা, নকশা হয়েছিল, তা ধরে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর মূল অবকাঠামো তৈরির কাজ আগামী জুন-জুলাই মাসেই শুরু করতে চায় সরকার।

ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর মাওয়া সংযোগ সড়কের কাজ আনেকাংশ এগিয়ে গেছে। মাওয়া তীর রক্ষা বাঁধের কাজও প্রায় শেষ।

রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছন, “কথায় কথায় আর পরমুখাপেক্ষিতা নয়। আমরা নিজেরাই নিজেদের কাজ করব।”

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তায় প্রকৌশলীদের ‘টিম’ করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা টিম করেন। আমরা যে প্রকল্পগুলো করব, সে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে আপনারা সহায়তা করবেন।”

সর্বশেষ একনেক বৈঠকে বিদেশি পরামর্শকের পাশাপাশি দেশীয় পরামর্শক নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও প্রকৌশলীদের জানান তিনি।

“বিদেশি কনসালটেন্টরা এসে কাগজপত্র ঘেঁটে চলে যাবে,” মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি পরামর্শক নিয়োগ করলে অর্থের সাশ্রয় হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই প্রকৌশলী এম এ জব্বার, এম এ রশীদ, এফ আর খান, জহুরুল ইসলামের অবদান স্মরণ করেন।

দেশের উন্নয়ন এবং উৎপাদন কার্যক্রমে প্রকৌশলীদের ভূমিকারে গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

“আপনাদের কর্মদক্ষতা এবং আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।”

প্রকৌশলীদের উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ের বড় অংশ জনগণের করের টাকায় আসে জানিয়ে তাদের জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান হাসিনা।

“আপনারা প্রকৌশলীরা আপনাদের মেধা, মনন আর সৃজনশীলতা দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্ভয়ে কাজ করুন – সরকার সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।”

পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের প্রকৌশল শিক্ষাকে বিশ্বমানের করতে হবে। প্রকৌশল পেশা ও শিক্ষাকে যুগোপযোগী এবং এগিয়ে নিতে আমার সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতি শামীমুজ্জামান বসুনিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মহাসচিব মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম এবং ঢাকা সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহসীন আলী ও মহাসচিব এ কে এম শরীফুল ইসলাম।

বিডিনিউজ