অবশেষে রাস্তা নির্মাণে নেমেছেন গ্রামবাসী

ভোট না দেওয়ায় চেয়ারম্যান উদ্যোগ নিচ্ছেন না?
জনপ্রতিনিধি কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দি ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই একটি রাস্তা নির্মাণে নেমে পড়েছেন। গ্রামের অনেকের অভিযোগ, লতব্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বিগত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজেদের গ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়া এক ব্যক্তিকে ভোট দেন তাঁরা।

কিন্তু ওই প্রার্থী পরাজিত হন। পাশের রশুনিয়া গ্রামের প্রার্থী ফজলুল হক জয়লাভ করেন। দোসরপাড়া গ্রামের উন্নয়নে চেয়ারম্যান কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

গ্রামের কয়েকজন জানান, সম্প্রতি তাঁরা দোসরপাড়ায় অতিপ্রয়োজনীয় একটি সড়ক নির্মাণের দাবি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে যান। কিন্তু চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাননি। বারবার ধরনা দিয়েও এলাকার উন্নয়নে এবং সড়ক নির্মাণে চেয়ারম্যানের কোনো উদ্যোগ না দেখে বাধ্য হয়ে গ্রামের বাসিন্দারা নিজেরাই সড়ক নির্মাণে নেমে পড়েছেন। গ্রামের নারী-পুরুষ ও তরুণেরা চার দিন ধরে সড়কের কাজ করছেন। দোসরপাড়ায় প্রতিবছর লালনসংগীতের বড় আসর বসে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে এখানে লালনভক্তরা আসেন। তাই গ্রামবাসী সড়কটির নাম দিয়েছেন ‘দোসরপাড়া একতারা সাঁই সড়ক’।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যানের কাছে সড়কটি নির্মাণ করার দাবি নিয়ে কয়েকবার গিয়েছি। কিন্তু চেয়ারম্যান গুরুত্ব দেননি। তাঁর অনাগ্রহের কারণ আমরা বুঝতে পেরে নিজেরাই সড়ক নির্মাণ করছি।’ গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. রিপন বলেন, ‘সড়ক নির্মাণে চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ এগিয়ে না আসায় আমরা গ্রামবাসী টাকা তুলে নিজেদের জমির ওপর দিয়ে মাটি কেটে সড়ক নির্মাণ শুরু করি। এতে গ্রামের সবাই সহযোগিতা করছেন।’

দোসরপাড়া গ্রামে ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, সড়কটি নির্মাণ করা হলে এলাকার ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি রোগীদের হাসপাতালে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
লতব্দি ইউপির চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, গ্রামবাসী নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে সড়ক নির্মাণ করছেন—এ ধরনের খবর তিনি জানেন না। নির্বাচনে ওই গ্রামের বাসিন্দাদের ভোট না পাওয়ায় সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলেও চেয়ারম্যান দাবি করেন।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল কাশেম বলেন, ‘গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করলে সেটা ভালো খবর। আমরা এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

প্রথম আলো