তিনি একাই সিংহপুরুষ বাকি সব চুয়া : এরশাদকে বদরুদ্দৌজা

bcবিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দৌজা চৌধুরী এরশাদের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন কার কাছে তা খুঁজে পাচ্ছেন না, ভাবটা এমন যেন তিনি একাই সিংহপুরুষ বাকি সব চুয়া। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘‘তিস্তাসহ ভারত-বাংলাদেশের আন্ত:সীমান্ত নদী সমূহের পানির ন্যায্যহিস্যা আদায়ের উপায়’’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার আদায়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি মিন মিন করে কথা বলে তাহলে কিভাবে হবে? মিন মিন করে দাবি আদায় করা যায়না।

সভাপতির বক্তব্যে বি চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় সরকারের প্রতিবাদের কোন ভাষা নাই। ভারতের নির্বাচনের পর নাকি তারা কথা বলবে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বিরোধীদলও কোন প্রতিবাদ প্রস্তাব দিতে পারেনি। সংসদ কোন ভুমিকা নিতে পারেনি। আজকে এদেশকে শক্তিশালী করার একটাই উপায় তাহলো জনগনের সরকার। এই সরকারেরে পেছনে যদি জনগন থাকতো তাহলে বিজ্ঞ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও থাকতো। সংসদও শক্তিশালী হত। ন্যায্য অধিকারের কথা সে সরকার বলতে পারতো।

গোলটেবিল আলোচনায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিস্তায় যেখানে কোনদিন ৩ হাজার কিউসেকের নিচে পানি নামে নাই সেখানে এখন গড়ে ৫০০ কিউসেক পানি পাচ্ছি আমরা।

ভারত সরকার চাইলে তিস্তা চুক্তি করতে পারতেন। মমতাকে বুঝাতে পারতেন। মমতা না চাইলেও করতে পারতেন।

কাদের সিদ্দীকি বলেন, বিএনপি একটা আন্দোলনের ফলে তিস্তায় ৩ হাজার কিউসেক পানি পেল, আমরা সকলে মিলে যদি আন্দোলন করতাম তাহলে প্রায় ১৫ হাজার কিউসেক পানি পেতাম।

তিনি বলেন, দুর্বল বিরোধীদল আছে বলে চুপচাপ পা উঠিয়ে বসে আছেন, যদি মানুষ সব সক্রিয় হয় তাহলে চেয়ার ছাড়তে হবে।

সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যমুনায় একটা গাড়িরও কিছু হল না, জনবসতিরও কোন ক্ষতি হলো না কিন্তু গাল ফোলা মুজিবুরের ট্রেন যমুনা সেতুতে ঝড়ের কবলে পড়লো কিভাবে। যদি ট্রেনটা উল্টে পানিতে পড়তো তাহলে এই ৬০০ প্রাণের কি হতো?

একই আলোচনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, মমতা ব্যানার্জীকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আসলে তারা পানি দেবে না। ভারত শুধু আমাদেরকেই মরুভূমি করছে না, তাদের নিজেদের কিছু রাজ্যকেও মরুভূমি করছে।

তিনি বলেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যদি হয় সেটা পানি নিয়েই হবে। সরকারের যদি পানি খেতে না হয় হয় ১৬ কোটি মানুষের পানির প্রয়োজন আছে। ক্ষমতা ছেড়ে দিন জনগনের কাছে। পানি আমাদের অস্তিত্ব। এই ইস্যুতে সবাইকে এক হতে হবে।

গুম অপহরণ প্রসঙ্গে আ স ম রব বলেন, সাদা কাপড়ে আর সাদা জীপে যারা নিয়ে যায় তারা কোন দেশি লোক।

প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দূর্গ যারা প্রতিরক্ষা করছে তারা কি আমাদের দেশের লোক না বাইরের লোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলেন, যে চুক্তি ১৯৯৬ সালে করেছেন তার ৯নং ধারায় লেখা আছে ‘একটা দেশ আরেকটা দেশের ক্ষতি করবে না’। যখন একটার পর একটা ব্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে, কেন বাংলাদেশ ভারতকে অভিযুক্ত করতে পারে না।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের ক্ষমতার উৎস ভারত। সেজন্য ভারতের কাছে ন্যায্য অধিকার চাওয়ার সাহস আপনাদের নাই।

তিনি বলেন, বিএনপি কিছুই পারেনা ভারত থেকে আদায় করতে অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ভারতকে সব উজার করে দিয়ে দেয়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান কায়সার, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক প্রমুখ।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

শীর্ষ নিউজ