গজারিয়ায় নারী সাংবাদিকের বসত-বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

reporterমুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় আঁখি আক্তার নামের এক নারী সাংবাদিকের বসত-বাড়িতে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলাকারীরা ১টি ফ্রিজ, ১টি রঙিন টিভি, নগদ টাকা, স্বর্ণ ও মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী আঁখি আক্তার দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের গজারিয়া উপজেলা প্রতিনিধি। বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্যম কান্দি গ্রামের স্থানীয় সন্ত্রাসী আমান উল্লাহ নারী সাংবাদিক আঁখির স্বামী। বর্তমানে আমানউল্লাহ বিরুদ্ধে আদালতে আঁখির দায়ের করা একটি মামলা নারী নির্যাতন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় আঁখি আমানউল্লাহ’র বিরুদ্ধে আদালতে নারী নির্যাতন মামলাটি দায়ের করেন।

আঁখি আক্তার জানান, শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্যম কান্দি গ্রামের স্থানীয় সন্ত্রাসী আমান উল্লাহ ও খোকন প্রধানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী বসত-বাড়ির দরজা, জানালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান জিনিস পত্র লুটে নিয়ে যায়। গত ২৪ শে মার্চ নির্বাচনোত্তর গজারিয়ায় সংষর্ঘে মধ্যম কান্দি গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মাহবুব আলম জোটন নিহত হয়। নিহত জোটন আমানউল্লাহ’র ভাতিজা।
এ হত্যাকা-কে অন্যদিকে ধাবিত করার লক্ষে উপজেলার ফরাজিকান্দি গ্রামের কিছু লোকের বিরুদ্ধে জোটন হত্যার অভিযোগ তুলে ওই গ্রামের আমান উল্লাহ, খোকন বাহিনী ৭০-৮০ টি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এঘটনার পর থেকে গত ১ মাস যাবত ফরাজিকান্দি গ্রামটিতে নারী-পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে।

নারী-পুরুষ শূন্য গ্রামটিতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হলেও সন্ত্রাসীরা পুলিশের সাথে আঁতাত করে ফরাজিকান্দি গ্রামে ২০০ বাড়িতে লুটপাট করে প্রায়ই ২০কোটি টাকার সম্পদ লুটে নেয়। লুটপাটে নেতৃত্ব দেয় আমান উল্লাহ ও খোকন প্রধান।
সাংবাদিক আখিঁ আক্তার আরো জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসী আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি নারী নির্যাতন মামলা বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাকে চাপে রাখার জন্য আমান উল্লাহ’র বাহিনী বিভিন্ন মামলায় আঁখিকে জড়ানোর পায়তারাসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে। জোটন হত্যার পর থেকেই তিনি তার পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে রয়েছে। মধ্যমকান্দি গ্রামে সংঘর্ষের দিন পেশাগত দায়িত্বে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে যেতে পারেননি। ঘরে রক্ষিত টাকা পয়সা, স্বর্ণালঙ্কারও নিতে পারেননি।

ওই নারী সাংবাদিক ও তার পরিবার এখন হামলা-মিথ্য্য মামলার ভয়ে নিজ বসত-ঘর ছেড়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।
এ ব্যাপারে শনিবার গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. ফেরদৌস বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। আপনারা অযথা ফোন দিয়ে আমাকে বিরক্ত করছেন। কয়জনকে আপনাদের এ প্রশ্নের উত্তর দিব।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা