পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে চীন

padmaকাজ শেষ হবে সাড়ে তিন বছরে
বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে চীন। আগামী জুনেই পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হতে পারে। দরপত্রে কেবল একটি চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানটিই মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এদিকে, চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আর্থিক প্রস্তাবে মূল্যায়ন কমিটি ইতিবাচক সাড়া দিলে আগামী জুনে কোম্পানিটিকে মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, একটি প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছে। মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের পর ইতিবাচক মত দিলে চায়না প্রতিষ্ঠানটিই কাজ পাবে।

গতকাল সকালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল-হামকুড়িয়া-চাটমোহর সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে আগামী সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। কোনো সরকার স্থায়ী নয়, সরকার আসবে-যাবে, কিন্তু পদ্মা সেতু থাকবে। জনগণের সম্পদ পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, এটা এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা।

জানা গেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে মূল সেতু নির্মাণের আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩ এপ্রিল। কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন ও ডেইলিম এল অ্যান্ড টি জেভি এর অনুরোধে এবং পরামর্শকের মতামতের ভিত্তিতে সময়সীমা ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান দুটি আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়নি। এ প্রতিষ্ঠান দুটি সময় আরও বাড়ানোর অনুরোধ করে। স্যামসাং কোম্পানি ১০ সপ্তাহ ও ডেইলিম ১১ সপ্তাহের অতিরিক্ত সময় চায়। ডিটেইল ডিজাইন কনসালট্যান্ট এইকম ও স্থানীয় কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সময় বাড়ায়নি। দেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ কোটি ডলার বা ২৪ হাজার কোটি টাকা। এ টাকার সিংহ ভাগ ব্যয় হবে মূল সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ ও নদীশাসন কাজে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩২৯ ডলার বা ৯ হাজার ১৭২ কোটি টাকা ব্যয় হবে মূল অবকাঠামো নির্মাণে। মূল সেতু নির্মাণে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে, তাকে অন্তত ১৫ শতাংশ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। চুক্তির সময়ই এ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ টাকা ডলারে পরিশোধ করতে হবে।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণে চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় গত বছর ২৬ জুন। কারিগরি প্রস্তাব জমার মেয়াদ ছিল ৯ সেপ্টেম্বর। ঠিকাদারদের অনুরোধে চার দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়। ৯ জানুয়ারি কারিগরি প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে তিন প্রতিষ্ঠানকেই যোগ্য ঘোষণা করা হয়। আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হয় ৬ মার্চ। প্রথমে চার সপ্তাহ সময় দিলেও ঠিকাদারদের অনুরোধে তা আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়।

এদিকে, পদ্মা সেতুর নদীশাসন অংশের কারিগরি দরপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- জাপানের পেন্টা-ওশান কন্সট্রাকশনস, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান পদ্মা আরটিসি, বেলজিয়ামের জেন ডি লুন, চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড এবং কোরিয়ার হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্সট্রাকশন। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আর্থিক প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। মূল অবকাঠামো ও নদীশাসনের অংশের জন্য পরামর্শক নিয়োগে কারিগরিভাবে যোগ্য বিবেচিত হয়েছে চার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্রের লুইস বার্জার গ্রুপ ইন-করপোরেশন, ফ্রান্সের ইগিস ইন্টারন্যাশনাল, দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া এঙ্প্রেসওয়ে করপোরেশন ও ভারতের ইন্টারন্যাশনাল কনসালট্যান্টস অ্যান্ড টেকনোক্রেটস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান চারটির কাছে গত সপ্তাহে আর্থিক প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের অপর তিন অংশ জাজিরা সংযোগ সড়ক, মাওয়া সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এলাকা-২ এর নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এ তিন অংশের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান এএমএল-এইচসিএম। আর এ তিন অংশের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বুয়েট। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বাংলাদেশ প্রতিদিন