সিরাজদিখানে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ

rapeফলো আপ
ইমতিয়াজ বাবুল: মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে এক কিশোরীকে প্রথমে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে পরে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে চার মাস ধরে জোড় করে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের মালখানগর গ্রামের বাড়ি থেকে ওই চার মাসের অর্ন্তস্বত্বা কিশোরীকে উদ্ধার করে সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ধর্ষক ইমরান শেখকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় কিশোরীর মাতা রিনা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। খবর পেয়ে ছেলের পরিবার ঘর তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। জানা গেছে,হত দরিদ্র অসহায় একটি পরিবার, বাবা রিক্সা চালক তিন কন্যা নিয়ে উপজেলার মালখানগর গ্রামে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এলাকার বখাটে যুবক ইমরানের কালো দৃষ্টি পরে ১৪ বছরের কিশোরী মেয়েটির উপর। প্রথমে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে পরে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে, এক পর্যায়ে মেয়েটি ৪ মাসের অন্তসত্তা হয়ে পরে।

ধর্ষিতার মা রিনা বেগম জানায়, গত ১৬ এপ্রিল মেয়ে অসুস্থ হয়ে পরলে মালখানগর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কল্যান কেন্দ্রের ভিজিটর সেলিনা পারভীন ও আয়া মমতাজ বেগম তাকে জানান, মেয়ে ৪ মাসের অন্তসত্তা। তখন মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে মেয়ে জানায় তাকে সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর গ্রামের বিল্লাল শেখের ছেলে ইমরান শেখ (২২) প্রথমে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে পরে ভয় দেখিয়ে কয়েকবার ধর্ষন করে।

এ ঘটনা এলাকা জানাজানি হলে খবর পেয়ে ছেলের মা তাদের বলেন, গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট করে ফেলতে পরে তার ছেলের সাথে বিয়ের ব্যাবস্থা তারা করবে। ১৯ এপ্রিল আয়া মমতাজের সহযোগীতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে কিশোরীরর গর্ভপাত করানো হয়। এলাকাবাসী জানান, ওই দিন রাতেই কিশোরীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসার পর মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে ২০ এপ্রিল সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তখন ছেলের বাবা বিল্লাল শেখ মেয়ের পরিবারকে ঘটনা অণ্য কাউকে জানাজানি করলে তাদের মেরে ফেলার হুমকী দেয়। ছেলের বাবা মা ও শিশু কল্যান চিকিৎসা কেন্দ্রের আয়া মমতাজকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার জন্য বলে।

এ নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপার শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী আরও জানায় এ ছেলে অনেক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে নষ্ট করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য ছেলের বাবা এক প্রভাবশালী নেতাকে ১লাখ টাকা দিয়েছেন। তার ধর্ষন ও গর্ভপাতের বিষয় ধামা চাপা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছেন। মালখানগর স্কুল কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, ছেলেটিকে একটি মেয়েলি ব্যপারে অভিযোগে সাবধান করেছিলাম।

পরে এ ব্যাপারে ছেলের পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায় নাই। মালখানগর মা ও শিশু কল্যানের ভিজিটর সেলিনা পারভীন জানান, আয়া মমতাজ মেয়েটির মা রিনা বেগম মেয়েটিকে আমাদের কাছে আনলে আমি পরিক্ষা করে নিশ্চিত হই, মেয়েটি ৪ মাসের অন্তসত্তা ৮/১০ সপ্তাহের বেশী অন্তসত্তাদের আমাদের এখানে কিছু করার অনুমতি নেই। তাই আমি তাদের ঢাকা নিয়ে যেতে বলেছি। এরপর তারা কোথায় কাকে দিয়ে কিভাবে করেছে আমি জানিনা।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, কিশোরীর পিতাসহ পরিবারের লোকজন এ বিষয় জানতে পেরে বুধবার সিরাজদিখান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় পুলিশ এখনো কোনও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কিশোরীরর বাবা হাবুল শেখ বলেন, আসামিরা এলাকার প্রভাবশালী লোক বিধায় তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোজ্জান্মেল হোসেন জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।