মুন্সীগঞ্জ-নারায়নগঞ্জ লঞ্চ পথে অভিনব কায়দায় ছিনতাই

hjমুন্সীগঞ্জ-নারায়নগঞ্জ নদীপথে চলাচলের সময় এখন একটা বিষয় চোখে পড়ে তা হল নদীর পূর্বপাড় ঘেঁষে কিছুদূর পরপর একদল ছেলে গোসল করছে। কেউ কেউ দলবেঁধে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে উঠার চেষ্টা করছে। লঞ্চের কর্মীরা একদিক দিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা আরেক দিক দিয়ে উঠে পড়ছে। এটাকে নদীর পাড়ের দূরন্ত ছেলেদের খেলা মনে হলেও তাদের কষ্ট করে লঞ্চে উঠার আরো কারন হল ছিনতাই।

বুধবার মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়নগঞ্জ যাওয়ার সময় সরেজমিনে দেখা গেল একদল কিশোর বয়সের ছেলে লঞ্চে উঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু লঞ্চের কন্ট্রাকটর একটা বাঁশ দিয়ে ওদের তাড়িয়ে দিল। যাওয়ার সময় আর ছিনতাই দেখা হলনা।

কিন্তু নারায়নগঞ্জ থেকে ফেরার পথে দুপুর সোয়া ১ টার দিকে মুশফিক-২ লঞ্চে একদল ছেলে উঠে পড়ল। এই লঞ্চের কোন কর্মী তাদের বাঁধা দিলনা। সাধারণ যাত্রীরাও মনে করল পোলাপানের দুষ্টামী। কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যেই কোর্টগাও গ্রামের সুজন নামের একজনের চশমা ও মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কমের বার্তা সম্পাদক আল মামুনের সানগ্লাস সারেং এর কক্ষের সামনে থেকে নিয়ে লাফিয়ে নদীতে নেমে গেল। এরপরও আরো কয়েকজন লঞ্চে উঠার চেষ্টা করল কিন্তু সতর্ক যাত্রীদের বাধার মুখে আর উঠতে পারলনা।

একই সময় নিচের কাটাখালী গ্রামের বাসেদ নামে এক লোকের গলার স্বর্ণের চেইনের দিকে হাত বাড়ালেও বাধার মুখে নিতে পারেনি। যাত্রীরা সতর্ক হওয়ার পর বাঁধা দেয়ার পরও কয়েকটি দল প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চটিতে উঠার চেষ্টা করে।

মুশফিক-২ এর কন্ট্রাকটর জানালেন, ওরা দল বেধে লঞ্চে উঠার চেষ্টা করে তাই বাঁধা দেয়া যায়না। বাঁধা দিলে ওরাও ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। মাঝে মাঝে পুলিশ টহল দিয়ে ওদের তাড়িয়ে দেয় কিন্তু অধিকাংশ সময় আমাদের আতঙ্কের মধ্য দিয়ে এই রুটে চলাচল করতে হয়।

মুন্সীগঞ্জ-নারায়নগঞ্জ ও মতলবের প্রত্যেকটি লঞ্চে ওরা উঠার চেষ্টা করে। তিনি আরো জানালেন, কয়েকদিন আগে মুশফিক-১ এর একজন কর্মীকে লঞ্চে উঠে ইট মেরে মুখ থেতলে দিয়েছে এই ছিনতাইকারীরা।

প্রায় প্রতিদিন এই রুটে যাতায়ত করে এমন কয়েকজনের সাথে জানা গেল, ২০ মিনিট পরপর লঞ্চ আসে এটা ওরা জানে। মদনগঞ্জের আগে থেকে নারায়নগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত কয়েকটি ছিনতাইকারীর দল লঞ্চে উঠার জন্য নদীর মাঝখানে অবস্থান নিয়ে থাকে। প্রত্যেকটি লঞ্চে এরা উঠার চেষ্টা করে। যে লঞ্চে যাত্রীরা বা লঞ্চের কর্মীরা বাঁধা না দেয় সেই লঞ্চেই উঠে পড়ে। ঘড়ি, চেইন, চশমা, মানিবেগ ইত্যাদি ছোটখাট জিনিসপত্র টার্গেট হলেও সুযোগ পেলে বড় ধরনের ঘটনাও ঘটিয়ে ফেলে। মাঝে মাঝে যাত্রী সহকারে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

হঠাৎ করে এই শান্ত নদীপথটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরায় এবং প্রশাসনের নিশ্চুপ ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অনেক যাত্রী।

পাড় ঘেঁষা নদীপথ
মুন্সীগঞ্জ নারায়নগঞ্জ নদীপথটির অধিকাংশ অংশ জুড়ে থাকে সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মালবাহী জাহাজে। তাই যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো চালাতে হয় পূর্বধারের পাড় ঘেঁষে। এই সুযোগটিই বেছে নেয় এই সংঘবদ্ধ চক্র। ২০ মিনিট পরপর লঞ্চ আসে তাই তারা অপেক্ষা করে টায়ার বা ফোমের উপর ভেসে থেকে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এই নদীপথে লঞ্চে ডাকাতের আক্রমনে আইনজীবী সুমন নিহত হওয়ার পর থেকে এই পথটি এখন মুন্সীগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লার মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের পথ। এখন নতুন করে শুরু হয়েছে প্রতিদিন ছিনতাই। আতঙ্ক থেকে পরিত্রান চায় সাধারণ মানুষ।

জাস্ট নিউজ