শ্রীনগরে মামলার আসামি না হওয়ায় পুলিশের কান্ড!

Policeমুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মামলার আসামি না হওয়াটাই অপরাধ হয়েছে এক যুবকের ! এজন্য পুলিশ আল হাদী (৩০) নামে ওই যুবককে প্রথমে ভুলক্রমে গ্রেপ্তার করে বেধড়ক মারধর করে। এসময় ভাইকে রক্ষা করতে আসলে পুলিশ তার বড় বোন আম্বিয়া বেগমকে (৪০) শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। পুলিশ জনরোষের কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করে চলে আসলেও পরে মিমাংসার কথা বলে আল হাদীকে অন্য গ্রামে ডেকে আনে। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। হাদীকে সারারাত থানায় আটকে নির্যাতনের পর মঙ্গলবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তার পরিবারের লোকজন দাবি করে। তবে পুলিশ থানায় আটকে হাদীকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার দুপুরে শ্রীনগর থানার এএসআই নুরুল ইসলাম অপর এক এএসআইকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ পোশাকে উপজেলার লস্করপুর এলাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আরজ আলীকে গ্রেপ্তার করতে যায়। এসময় আল হাদীকে ইরি জমিতে কাজ করা অবস্থায় আরজ আলী মনে করে আটক করে। পরে আল হাদী নিজের পরিচয় দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছুটে যেতে চাইলে নুরুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। লাঠির আঘাতে হাদীর পিঠের বিভিন্ন স্থানে ফেটে যায়। ভাইকে মারতে দেখে হাদীর বোন আম্বিয়া বাড়ি থেকে দৌড়ে যায়। এসময় এএসআই নুরুল ইসলাম তাকে তলপেটে লাথি দিয়ে জমিতে ফেলে দেয়। তাদের চিৎকারে আশপাশের মহিলারা এসে পুলিশের উপর চড়াও হলে নুরুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করে তার সঙ্গীকে নিয়ে ওখান থেকে চলে আসে। পরে আম্বিয়াকে আহত অবস্থায় শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

একইদিন বিকালে নুরুল ইসলাম তার পূর্ব পরিচিত হাসাড়া গ্রামে মহসিনের বাড়িতে যায়। সেখান মিমাংসার কথা বলে মহসিনের মাধ্যমে হাদীকে ডেকে এনে নুরুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের না জানানোর জন্য অনুরোধ করে। পরে নুরুল ইসলাম একসাথে নাস্তা করে হাদীর সাথে কোলাকুলি করে তাকে বিষয়টি ভুলে যেতে বলে। কিছুক্ষন পর হাদী ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শ্রীনগর থানার এসআই আলমগীর কবির তাকে গ্রেপ্তার করে। হাদীর গ্রেপ্তার নিয়ে এলাকার জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাদীর ছোট ভাই রহিজ জানান, তারা ন্যায় বিচারের জন্য পুলিশের হেড অফিসে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এব্যাপারে শ্রীনগর থানার এএসআই নুরুল ইসলাম হাদীকে ভুলক্রমে গ্রেপ্তারের বিষষটি স্বীকার করলেও তাকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি কিছু জানেননা বলে জানান।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কমকে জানান, আল হাদীকে ভুলবশত আটক করা হয়েছিল। পরে সে আসামি না হওয়ায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় আল হাদী গত বছরের ৫ই নভেম্বর সকালে শ্রীনগরের চৌরাস্তায় পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে ঘটনায় মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে, ওই মামলায় আল হাদীর নাম নেই বলেও তিনি জানান। সন্বিন্ধ আসামি হিসেবে তাকে আটক করে ওই মামলার আসামি হিসেবে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা