ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে নারী গ্রামপুলিশকে হত্যার নেপথ্যে!

lal miaশ্রীনগরে দিবালোকে ধর্ষন
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে দিবালোকে ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে পারভীন (৪০) নামে এক নারী গ্রামপুলিশকে ধর্ষন ও হত্যার ঘটনা নিয়ে ঐ এলাকায় চলছে নানা রকম গুঞ্জন। গত বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে লাল মিয়া (৪৫) নামে এক পুরুষ গ্রামপুলিশ ঐ নারী গ্রাম পুলিশকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে নানা রকম প্রশ্ন নিয়ে তদন্তে নেমেছে শ্রীনগর থানা পুলিশ।

ইউনিয়ন পরিষদের একটি সূত্র জানায়, লাল মিয়া অনেকদিন ধরে পারভীনকে নানা রকম কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রায় সাত মাস পূর্বে এনিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সভা চলাকালে পারভীন তাদের কাছে লাল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। লালমিয়ার বিচার না করলে সে আর চাকুরী করবেনা বলেও চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেয়। এসময় তাৎক্ষনিক ভাবে লাল মিয়াকে তার বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনা হয়। পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে মুজিবুর মেম্বার চড় থাপ্পর দিয়ে পারভীনকে চারকুরী ছাড়তে নিষেধ করে।

ধারণা করা হচ্ছে এ ক্ষোভ থেকে লালমিয়া পারভীনকে হত্যা করেছে। কিন্তু লাল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পরও বুধবার সকালে ফাঁকা ইউনিয়ন পরিষদে তাদেরকে কেন একসাথে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়েছে এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। এব্যাপরে ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ: সালাম জানান, ঐদিন লাল মিয়ার দায়িত্ব ছিলনা। লাল মিয়া কিভাবে পরিষদের চাবি নিয়েছে তা তিনি জানেননা।

তাছাড়া জনবহুল ষোলঘর বাজারের বিশ গজের মধ্যে পরিষদের কক্ষে লাল মিয়া একা ধর্ষণের সময় ঐ নারী চিৎকার দিলে তা পরিষদ সংল‎গ্ন রাস্তা দিয়ে বাজারে চলাচল কারী অনেকেরই তা শুনার কথা। অপরদিকে একা একজন নারীকে হত্যা করার পর ধর্ষন করা কোন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সহজ নয়।

সুতরাং একাজ লাল মিয়া একা করেছে নাকি তার সাথে আরো কেউ ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপর একটি সূত্র জানায়,একজন ইউপি সদস্যও পারভীনকে নানা ভাবে উত্যক্ত করত। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আহম্মদ আলী জানান, লাল মিয়া কোন ক্ষোভের কারণে এমন করতে পারে। তবে থাকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কোন বিষয়ই পরিস্কার ভাবে বলা যাচ্ছেনা।

গত বুধবার ইউনিয়ন পরিষদের নারী গ্রামপুলিশ দুই সন্তানের জননী পারভীন আক্তার (৪০) সকাল নয়টার দিকে প্রতিদিনের ন্যায় অফিসে আসলে পুরুষ গ্রামপুলিশ চার সন্তানের জনক লালমিয়া (৪৫) ইউনিয়ন পরিষদে তালা খুলে দেয়। পরে লালমিয়া ফাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে পারভীনকে ধর্ষন ও গলায় গামছা পেছিয়ে হত্যা করে।

কিছুক্ষন পর ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের অবসর প্রাপ্ত হাবিলদার হাজী খায়রুল অলম, গ্রাম পুলিশ সিরাজ সহ কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদে আসলে লাল মিয়া তাদের কক্ষে ঢোকতে না দিয়ে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ইউপি সদস্যদের খবর দেন। পরে ইউপি সদস্যরা কক্ষে ঢুকে পারভীনের নিথর দেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়। এঘটনায় নিহতের বড় ছেলে আসাদুল (২০) বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

পারভীন কেয়টখালী গ্রামের দিন মজুর আশ্রাব আলীম স্ত্রী। সে প্রায় আট বছর ধরে গ্রামপুলিশ হিসাবে কাজ করে আসছে। অপরদিকে লালমিয়ার বাড়ি সমসাবাদ গ্রামে। ইউনিয়ন পরিষদে সে দশ বছর ধরে গ্রাম পুলিশ হিসাবে কাজ করলেও সে খুবই ধূর্ত প্রকৃতির লোক বলে জানায় তার সহকর্মীরা।

2 Responses

Write a Comment»
  1. একা একজন নারীকে হত্যা করার পর ধর্ষন করা কোন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সহজ নয়। Correct the sentence please.

  2. উপযুক্ত বিচার নয়ত ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে বিষয়টির নিঃপত্তি হোক…। ক্রস ফায়ার হলে প্রকাশ্যে জনসমক্ষে হয়ার দাবি করছি…। যাতে এমন কাজ কেউ করার সাহস না পায়…।