পদ্মা পাড়ে পর্যটকদের ভিড়

বৈশাখী আনন্দ
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পদ্মা পারে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। শুধু মাওয়ায়ই নয়, পর্যটকদের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে লৌহজংয়ের পদ্মা রিসোট, মাওয়া রিসোটসহ পদ্মা পারের কয়েক কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে পর্যটকরা এসেছিলেন সপরিবারে। কেউবা এসেছেন একাকি আর প্রেমিক যুগলরা এসেছেন একে অন্যের হাত ধরে। উপভোগ করেছেন বালু চরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ, নদীতে গোসল করা আর পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত যাওয়ার অভাবনীয় দৃশ্য দেখা। সেই সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ ছিল বাংলার চির চেনা নাগর দোলায় চড়া। তবে পদ্মা পারে সারি সারি ড্রেজারের পাইপ (পদ্মা সেতুর কাজে নিয়োজিত) পর্যটকদের ভ্রমণে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পদ্মা পার ছেড়েছেন দূর-দূরান্তের পর্যটকরা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মাওয়া চৌরাস্তা বরাবর দক্ষিণের পদ্মা পারে পর্যটকদের ভিড় ছিল নজর কাড়ার মতো। রাজধানী ঢাকার যানজটে ত্যক্ত-বিরক্ত নগরবাসী সীসাযুক্ত বাতাস থেকে একটু হাফ ছেড়ে মুক্ত বাতাস গ্রহণ করতে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছিলেন রাজধানী ঢাকার অনতি দূরের এই পদ্মা পারে। কেরানীগঞ্জ, দোহার, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজদিখানসহ কাছাকাছি বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকেও পর্যটক এসেছিলেন পদ্মার নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে। কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে একটি গ্রুপ করে এসেছিলেন বেড়াতে। আবার অনেক প্রেমিক যুগল এসেছিলেন একে অন্যের হাত ধরে। ঘুরে বেড়িয়েছেন বালুময় এই পদ্মা পারে।

আমেরিকা প্রবাসী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা আহসান উল্লাহ তিন বছর পর এক মাসের ছুটি দেশে এসে স্ত্রী আফরোজাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন মাওয়া পদ্মা পারের এই বেলাভূমিতে। তিনি জানালেন, বিয়ের মাত্র এক মাস পরই জীবন-জীবিকার তাগিদে তাকে চলে যেতে হয়েছিল আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে। তাই ৩ বছর পরে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে চলে এসেছেন এই পদ্মা পারের বেলাভূমিতে। জায়গাটি খুবই সুন্দর, বিকেলটি তাদের খুবই আনন্দে কেটেছে। তবে পদ্মা পারে কোন প্রকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে না দেখতে পেরে সন্ধ্যার আগেই বাড়ির দিকে ফিরে যান তারা।

সাবেক হুইপ ও স্থানীয় এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এ প্রসঙ্গে বলেন, কোলাহল মুক্ত পরিবেশে একটু স্বস্তি নিতেই পর্যটকরা ঢাকা শহর ছেড়ে চলে আসেন মাওয়ার এ পদ্মা পারে। শুধু বিশেষ দিনেই নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও এখানে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। সরকার মাওয়ার অদূরে মাঝের চরে অত্যাধুনিক পর্যটক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply