ছয় মাস পর মায়ের কোলে শিশু মামুন

munshigonj-mamunপাচারকারী চক্রের হাত থেকে মুক্ত হওয়া শিশু মামুন ছয় মাস পর মা-বাবাকে ফিরে পেয়েছে।
রোববার বিকালে ঢাকার বংশাল থানার মাধ্যমে আশ্রয়দাতা নিজামের কাছ থেকে মামুনকে (৫) নিয়ে যান তার মা-বাবা। বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোদা নেওয়াজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মামুন ময়মনসিংহ সদরের চরহাসাদিয়া গ্রামের হামিদুল ইসলাম ও রহিমা খাতুনের ছেলে।

ছয় মাস আগে পাচারকারীরা মামুনকে নিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের মানুষ তাকে উদ্ধার করে। পরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলার বেকারি শ্রমিক নিজাম ছেলেটিকে নিজের কাছে রাখেন।
munshigonj-mamun
তিনি বলেন, রোববার মামুনকে তার প্রকৃত বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

মামুনের বরাত দিয়ে নিজাম সাংবাদিকদের জানান, বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশ থেকে মামুনকে অপহরণ করে শিশু পাচারকারী চক্রের এক মহিলা সদস্য।

কিন্তু মামুনের কান্নাকাটি দেখে আশপাশের লোকজন টের পেলে পাচারকারী মহিলা পালিয়ে যায়। তখন থেকে মামুন সিরাজদিখানে তার সঙ্গে ছিল।

নিজাম বলেন, মামুনকে পাওয়ার পর তিনি (নিজাম) ঢাকার বংশাল থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং প্রশাসনের সহায়তা চান।

কিন্তু বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও মামুনের স্বজনদের ঠিকানা না পেয়ে গত ৯ ও ১০ এপ্রিল কয়েকয়টি দৈনিক পত্রিকায় ছবিসহ মামুনের খবরটি ছাপানোর ব্যবস্থা করেন তিনি।

এই সংবাদ ও ছবি দেখে শনিবার ময়মনসিংহ থেকে আসেন মামুনের বাবা, হামিদুল ইসলাম, মা রহিমা খাতুন লিপি ও চাচা সাইফুল ইসলাম।

খুশিতে আত্মহারা মামুনের মা-বাবা
মাকে দেখেই মামুন হাওমাও করে কেঁদে ওঠে এবং মা বলে চিৎকার করে জড়িয়ে ধরে। মা খুশিতে আত্মহারা হয়ে কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাবা-চাচা নির্বাক হয়ে যান।

তারা কল্পনাও করতে পারেননি ওই অবুঝ শিশুকে আর কোনো দিন ফিরে পাবেন।

বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে মামুনের ছয় মাসের আশ্রয়দাতা শ্রমজীবী নিজামও খুব খুশি।

বিডিনিউজ
==============

মামুন তার পিতা-মাতাকে ফিরে পেল ৬ মাস পর

‘দৈনিক জনকন্ঠে’ খবর প্রকাশের পর ৫ বছরের শিশু মামুন ৬ মাস পর খুঁজে পেল তার হারানো বাবা মাকে। ৬ মাস আগে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশ থেকে মামুন নামের ৫ বছরের শিশুকে তুলে নিয়ে আসে শিশু পাচারকারী চক্রের এক মহিলা সদস্য। কিন্তু মামুনের কান্নাকাটি দেখে আশপাশের লোকজন টের পায় শিশুটি তার বাবা মাকে খুঁজছে। লোকজন জড়ো হলে সটকে পড়ে ওই শিশু পাচারকারী মহিলা। মামুনের জায়গা হয় মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন সিরাজদিখানের নীমতলাস্থ্য বেকারী কর্মচারি নিজামের ঘরে। নিজাম ঢাকার শ্যামপুর থানায় মামুনের বিষয়ে একটি জিডিও করেন।

প্রশাসনের সহায়তা চান তিনি। ইতিপূর্বে অনেকভাবে চেষ্টাও করেছেন মামুনের আপনজনের ঠিকানা পায়নি। অবশেষে ৯ এপ্রিল দৈনিক জনকন্ঠে ‘ছয় মাসেও মায়ের সন্ধান পায়নি মামুন, চোখের জলই তার সঙ্গী’ শিরনামে ছবিসহ সংবাদটি চোখে পড়ে মামুনের পরিবারের। এই সংবাদ ও ছবি দেখে শনিবার ময়মনসিংহ জেলা থেকে ছুটে আসে মামুনের পিতা-হামিদুল ইসলাম, মাতা-রহিমা খাতুন (লিপি) ও চাচা-সাইফুল ইসলাম। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও পিতা মাতাকে মামুন একটুও ভোলেনি। মাকে দেখেই মামুন হাও মাও করে কেঁদে মা বলে চিৎকার করে জড়িয়ে ধরে। মা খুশিতে আত্মহারা হয়ে ক্ষনিকের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বাবা-চাচা নির্বাক। তারা কল্পনাও করতে পারেনি তাদের ওই অবুঝ শিশুকে আর কোন দিন ফিরে পাবে।

মামুনের মা রহিমা বেগম বলেন পত্রিকা মানুষের কল্যানে যে কাজ করে এটাই তার এটি জলন্ত সাক্ষ্য। রবিবার বিকেলে মামুনের বাবা মায়ের ঠিকানা যাচাই বাছাই করে তাদের কাছে মামুনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মামুনের গ্রামের নাম চরহাসাদিয়া, পোষ্ট অফিস-অম্বিকাগঞ্জ, থানা ও জেলা ময়মনসিংহ। মামুনকে তার পিতা মাতার কাছে বুঝিয়ে দিতে পেরে মামুনের ৬ মাসের আশ্রয়দাতা দিন মজুর নিজাম ও খুব খুশি হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে আরো এমন নিখোঁজ হওয়া একটি শিশু রয়ে গেল তার নাম আব্দুর রহিম, তার পিতার নাম মনির হোসেন মাতার নাম পিয়রা বেগম। সে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের মিরকাদিম এলাকার তিলারদিরচর গ্রামে কাঠমিস্ত্রি মান্নানের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে আছে।

স্বদেশ