পদ্মার তীরের হোটেলেই নেই পদ্মার ইলিশ!

Hilsa1পদ্মার ইলিশের কথা শুনলে জিভে জল আসে না, এমন ভোজন রসিক কমই রয়েছে। কিন্তু যে পদ্মার ইলিশের এত নাম, সেই পদ্মা নদীর তীরের হোটেলেও নেই পদ্মার ইলিশ। সব হোটেলেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বরিশালের।

পদ্মার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, মাওয়া-কাওড়াকান্দি ঘাটের দু’পাশের হোটেলগুলোতে থরে থরে সাজানো ইলিশ মাছ দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। তারা ভাবছেন, পদ্মার তীরে নিশ্চয় পদ্মার ইলিশই থাকবে। নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখে মনে মনে ভাবছেন, তীরের হোটেলে নিশ্চয় থাকবে তাজা মাছটাই।

আর যেই ভাবা সেই কাজ। তীরে ভিড়ে পদ্মার ইলিশের স্বাদ নিতে চেয়ার চেপে বসছেন পেট পূজোয়।

পদ্মা তীরের হোটেলগুলোতে দুপুর কিংবা রাতের খাবার মানেই ইলিশ ভাজা সবার প্রথম পছন্দের তালিকায়। নতুন যাত্রী হলেতো কথাই নেই। কিন্তু, খেতে বসেও তারা বুঝতে পারছেন না বাস্তবতা।

অনেকে ভাবছেন বুঝি এখন আর কোনো মাছেরই স্বাদ নেই। আবার কেউ ভাবছেন হয়তো ছোট মাছ হওয়ায় স্বাদ কম হচ্ছে। বড় হলে নিশ্চয় খুব মজাদার হবে। অনেকে আবার নিজেদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে তর্কতর্কিও করছেন।

এই যখন ভোজনবিলাসীদের অবস্থা তখন মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাটের হোটেল মালিকরা জানান, পদ্মার ইলিশের দাম দ্বিগুণ। এত বেশি দাম দিয়ে পদ্মার ইলিশ খেতে চাইবে না কেউ। তাই আমরা পদ্মার ইলিশ বিক্রি করি না। সব হোটেলেই বরিশালের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। কাওড়াকান্দি ঘাটের অদ‍ূরে শিবচর থানার বেইলি ব্রিজ এলাকার বাজার থেকে বরিশালের ইলিশ সংগ্রহ করেন তারা।

কাওড়াকান্দি ঘাটের বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিক আব্দুল লতিফ জানান, কাওড়াকান্দিতে রয়েছে প্রায় ৯০টি হোটেল। কিন্তু কোনো হোটেলেই বিক্রি হয় না পদ্মার ইলিশ। পদ্মায় ধরা পড়া ইলিশগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চলে যায় ঢাকায়। এগুলো বরিশালের ইলিশের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়।

তিনি জানান, ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের প্রতিটি বরিশালের ইলিশ ৬-৭শ’ টাকা কেজি দরে কিনতে পাওয়া যায়। আর একই ওজনের পদ্মার ইলিশে বিক্রি হয় একহাজার টাকা কেজি দরে।

তিনি আরও জানান, এক পিস ইলিশ মাছ বিক্রি করা হয় ৬০ টাকায়। একই সাইজের পদ্মার ইলিশ বিক্রি করতে হবে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তাহলে প্রতিযোগিতার বাজারে মানুষতো কিনে খাবে না।

১৬ বছর ধরে কাওড়াকান্দি ঘাটে হোটেলের ব্যবসা করেন আব্দুল লতিফ মিয়া। কয়েক বছর ধরেই এই অবস্থা বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে তাদের ব্যবসা খুব ভালো যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে যখন নদী উত্তাল থাকে, সে সময়ে বন্ধ হয়ে যায় লঞ্চ চলাচল। তখন এসব হোটেলের ব্যবসা ভালো চলে। ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখেন হোটেল। এতে তার দৈনিক গড়ে ১৫ থেকে ২০হাজার টাকা বিক্রি হয়।

আল্লার দান হোটেলের মালিক আ. মান্নান বেপারী বলেন, “পদ্মার যে সব ইলিশ ধরা পড়ে, তা সোজা চলে যায় ঢাকায়। এখানকার লোকেরা এত দাম দিয়ে এ মাছ খাবে না। তাই হোটেল মালিকরা রাখে না।”

মুন্সী হোটেলের মালিক মান্নান মুন্সীও স্বীকার করেন বরিশালের ইলিশ বিক্রি করার কথা। তিনিও দাম বেশির কারণে রাখেন না বলে জানান।

তিনি জানান, শীত ও দুই ঈদে তাদের বেচা-কেনা ভালো হয়।

মান্নান মুন্সী আরও জানান, অনেকেই বরিশালের ইলিশকে পদ্মার বলে চালাচ্ছে। তবে তিনি গ্রাহককে সরাসরি বলে দেন। তার কাছে পদ্মার ইলিশ নেই।

বরগুনা