এসপির বিরুদ্ধে ২২ অভিযোগ ডিসির

Policeগজারিয়ায় সহকারী রির্টানিং অফিসার ও ইউএনও ড. এটিএম মাহবুব-উল-করিম শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার মামলাটি ১৩ দিনেও রুজু হয়নি। মামলাটি গ্রহনের জন্য স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় টেলিফোনিক আলাপ ছাড়াও দু’দফা জরুরি পত্র দিলেও কর্ণপাত করেনি মুন্সীগঞ্জের এসপি মো. হাবিবুর রহমান। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় চলছে। শোকজ করা হয়েছে এই এসপিকে। এদিকে গজারিয়া উপজেলার নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা, পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে গজারিয়ার ওসি মামুন-উর-রশিদকে প্রত্যাহার ও এই এসপি মো. হাবিবুর রহমানকে সাত দিনের ছুটিতে পাঠানো হয়।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিন সদস্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হয়েছেন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এনএম জিয়াউল আলম। অপর দুই সদস্য হচ্ছেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও পুলিশের ডিআইজি (হাইওয়ে) মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। এই কমিটি আগামী ৬ এপ্রিল সরেজমিন তদন্তে গজারিয়া আসছেন।

এছাড়া সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সার্বিক বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এসপি ছুটিতে যাওয়ার ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত জেলার ৩টি উপজেলার নির্বাচনই হয়েছে সহিংসতাবিহীন। এই তিন উপজেলাগুলোর কয়েক প্রার্থীর কাছ থেকে আগাম বড় অঙ্কের উৎকোচ গ্রহন করেন এই পুলিশ সুপার। কিন্তু এই পুলিশ সুপার ছুটিতে যাওয়ার পর প্রার্থীরা এই টাকা ফেরত চেয়েও পাননি। এর মধ্যে এক উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছিলেন দুই লাখ এবং একই উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এক লাখ টাকা দিয়ে ছিলেন। যেহেতু তিনি দায়িত্বে নেই তাই এই টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলা হলেও তিনি এখনও টাকা ফেরত দেননি। অন্য দু’টি উপজেলায়ও একই অবস্থা। এই তথ্যসহ গোয়োন্দা সংস্থাটির কাছে এসপির নানা অণৈতিকতার বেশ কিছু তথ্য এসেছে। গজারিয়ার জেএমআই রেস্টুরেন্টে থেকে বড় বড় মাদকের চালান পার করার সাথে জড়িত ছিলেন এসপির শ্যালক মো. সাইফুল ইসলাম।

এছাড়া পুলিশের সোর্স মহিউদ্দিন ও এক এসআইয়ের এর সাথে সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসছে। সদর উপজেলার মিরকাদিমে সিনহা এনার্জির বিদ্যুত প্লান্ট তিন মাস বিলম্বিত হয় এসপি কারণে। পুলিশ ফাঁড়ির জন্য দেয়া জমির সাথে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ খাস জমি দখলে রাখায় বিদ্যুত প্লান্টের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। প্রাধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের কারণে বিদ্যুত সচিব মনোয়াররুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসকের কয়েক দফা চেষ্টায় জমিটি উদ্ধার করলে কাজ শুরু। এই তথ্যসহ এসপির সরকারে বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের নানা ঘটনা জনতে পেরেছেন।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক এই এসপির বিরুদ্ধে গোপন প্রতিবেদনে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে ২২টি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এদিকে পুলিশের এএসআই এমদাদুল হক কতৃক গজারিয়া উপজেলার সরকারী রিটারর্নিং অফিসারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কি পদক্ষের নেয়া হয়েছে তা ৭ দিনের মধ্যে আইজি, এসপি ও ওসিকে প্রতিবেদন আকারে জানতে বলেছে হাইকোর্ট।

স্বদেশ